জাকারিয়া হোসাইন
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলা নদীর তীরবর্তী লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ ভেসে ওঠায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সোনাতলা বেড়িবাঁধের চরে বসবাসকারী জেলে পরিবারের সদস্য মোঃ শিমুল হাওলাদার প্রথমে তাজা বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাঘ রক্ষাকারী দলের সদস্য মোঃ আব্দুল লতিফ হাওলাদারকে জানান। এরপর আব্দুল লতিফ দলনেতা মোঃ জাকারিয়া হোসাইনকে অবহিত করেন।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় দলনেতা টাইগার টিম পরিচালনাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওয়াইল্ড টিম’—এর প্রতিনিধি মোঃ আলম হাওলাদারকে জানান। পরে ওয়াইল্ড টিমের মাধ্যমে বিষয়টি শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরিফুল ইসলামকে জানানো হয়।
খবর পাওয়ার পর পরই এসিএফ মোঃ শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বন বিভাগের সদস্য, কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) এবং ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) একটি যৌথ প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনাস্থল অনুসন্ধানে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে বাঘের তাজা পায়ের ছাপ দেখা যায়। পরবর্তীতে পায়ের ছাপ পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করে সহকারী বন সংরক্ষক নিশ্চিত করেন যে, বাঘটি আবার সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে ফিরে গেছে।
বাঘ বনে ফিরে গেলেও বর্তমানে পুরো সোনাতলা গ্রাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চরম বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসিএফ স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সতর্ক রাখতে মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মকর্তা—কর্মচারী, ওয়াইল্ড টিম, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যদের নজরদারি ও টহল জোরদার করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, বারবার বাঘ লোকালয়ে চলে আসার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী তীরবর্তী ও বনে নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি এবং পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার স্বার্থে সুন্দরবনের সীমানায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবিলম্বে ‘নিরাপত্তা বেষ্টনী’ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

