স্টাফ রিপোর্টার ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার মধ্য চৈত্রের দাবদাহে বিপর্যস্ত রাজধানীর জনজীবন। গত তিনদিন থেকে হঠাৎ করেই বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা। শনিবার রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিবছর সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ওই সময় তাপমাত্রার পারদও উপরে উঠতে থাকে। সেই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটলো এবারই। ফলে প্রচন্ড গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন।
বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা যেন দুর্বিষহ দিন অতিবাহিত করছে। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও হাস ফাস করছে। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে মাটি ফেটে চৌঁচির হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন থেকে মহানগরীর অধিকাংশ এলাকায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিংও। এর উপর বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহের উন্নয়ন কাজের কারণে গত দুইদিন গোটা মহানগরীতে বিদ্যুত ছিলনা প্রায় সারা রাত।
বর্তমানে দুপুর ১২টা গড়াতেই রাস্তা-ঘাট জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে। আগুনমুখো আবহাওয়ার কারণে খা খা করছে রাজশাহীর রাজপথ। কর্মজীবী মানুষ ছাড়া কেউই খুব জর্বরী কাজ না থাকলে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। যারপরনাই ভোগান্তিতে থাকা মানুষের মধ্যে বৃষ্টির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে।
গত কয়েক দিন থেকে হঠাৎ করে তাপমাত্রা বাড়ায় ঘরে ঘরে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এসব রোগে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের দুর্ভোগ বেড়েছে এ তীব্র গরমে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জেষ্ঠ্য পর্যবেৰক প্রকাশ চন্দ্র ঘোষ জানান, রবিবার দুপুরে মহানগরীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ এবং বিকেল ৩টায় ৫০ শতাংশ।
তিনি জানান, চৈত্রের মধ্য সময়ের এসে গত তিনদিন থেকে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বাড়ছে। এর আগে ২৬ মার্চ রাজশাহীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়স। গত ২৭ মার্চ ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলয়িাস এবং গতকাল ২৮ মার্চ ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রকাশ চন্দ্র ঘোষ আরও জানান, এর আগে গত ২০০৫ সালের ১২ জুন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পর ২০১২ সালের ৪ জুন রেকর্ড হয় ৪২ ডিগ্রি। আর গত বছরের ১০ এপ্রিল ৪১ দশকি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবছর ক’দিন থেকেই আবার তাপমাত্রা বাড়ছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

