বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা-এই নীতি উপেক্ষা করে জেলখানার দুর্র্ধষ কয়েদিদের মতো পায়ে ও কোমরে লোহার শিকল পরিয়ে লেখাপড়ায় বাধ্য করা হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
মধ্যযুগীয় কায়দায় শিশু নির্যাতনের এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও জামিয়া মোল্লা আব্দুল আজিজ নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।
তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য শিক্ষার্থীরা থাকতে চায় না বলেই অভিভাবকদের পরামর্শে তাদের মাঝে মাঝে বেঁধে রাখা হয়।
এদিকে এ ধরনের নির্যাতনের কারণে শিশুরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রতিবন্ধী হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ছয়গাঁও জামিয়া মোল্লা আব্দুল আজিজ নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। আবাসিক এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৪০ জন শিক্ষার্থী আরবী ও কোরান শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, অংক বিষয়ে পড়াশোনা করছে।
সরজমিনে দেখা যায়, ছয়গাঁও আব্দুল আজিজ নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাব্বির, সিফাত ও জাবের- এদের কারও বয়স ৬ বছরের বেশি নয়। অথচ মাদ্রাসার ভেতর তাদের দেখে মনে হবে এরা কোনো দুর্র্ধষ খুনের মামলার আসামি। তাই তাদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। লেখাপড়া না করা ও মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে তিনজনকে একত্রে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
আর এই শিকল পড়েই পড়ালেখার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে হচ্ছে তাদের। শিশুদের এই অমানবিক কষ্ট দিয়েও নির্বিকার মাদ্রাসার সুপার মুফতি হাবিবুল্লাহ বাহারী।
শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শিক্ষার্থী জাবের, সাব্বির ও সিফাত জানায়, বাড়ি ছেড়ে এত দূরে মাদ্রাসায় থাকতে তাদের ভালো লাগে না। তাই তাদের লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। শিকল পরা অবস্থায় হাঁটাচলা ও কাজকর্ম করতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু ভয়ে কাউকে বলতে পারে না।
মাদ্রাসার সুপার মুফতি হাবিবুল্লাহ বাহারী জানান, তিন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করতে চায় না, প্রায়ই মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই অভিভাবকদের পরামর্শেই তারা শিশুদের মাঝে-মধ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।
শিক্ষার্থী সাব্বিরের মা হোমায়রা বেগম জানান, সাব্বির ঠিক মতো পড়াশোনা করতে চায় না। মাদ্রাসা ছেড়ে বাড়ি চলে আসে। তাই তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রাজেশ মজুমদার জানান, শিশু শিক্ষার্থীদের শিকল দিয়ে বেঁধে এভাবে নির্যাতন করা হলে ভবিষ্যতে তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম রাকিব হায়দার জানান, সংবাদ পেয়ে মাদ্রাসা পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী ৩ জনকে পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক

