বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গত দুদিনেও খোঁজ মেলেনি দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির। গত মঙ্গলবার রাত থেকে ৩টি নতুন জাহাজের পাশাপাশি অত্যাধুনিক ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান কাজ পরিচালিত হলেও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না লঞ্চটির। নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খানের আশঙ্কা, লঞ্চটির শতাধিক যাত্রীই হয়তো মারা গেছেন। তাদের বেঁচে থাকার কোনো আশা তিনি করছেন না।
জানা গেছে, যেখানে লঞ্চটি ডুবে গেছে সেখানে প্রবল স্রোত। স্রোতের তোড়ে সেটি হয়তো অন্য কোথাও ভেসে গেছে। অথবা তলিয়ে যাওয়ার পর নদীর তলদেশে পলি বা বালুতে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই ধারণা আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ‘সোনার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই দফায় প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশির পরেও কোনো সন্ধান না মেলার পর থেকে।
মাটির তলদেশে লঞ্চটির অবস্থান জানার জন্য চট্টগ্রাম থেকে কান্ডারি-২ নামের যে বিশেষ জাহাজটি তলব করা হয়েছে এখনো সেটি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেনি। এটি এসে পৌঁছলে অন্তত বোঝা যাবে লঞ্চটির অবস্থান কোথায়।
উদ্ধারকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও লঞ্চের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তবে তারা এখনো আশাবাদী কান্ডারি-২ আসার পর লঞ্চটির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, তিনদিন হতে চলেছে লঞ্চ ডুবির। কিন্তু সেটি উদ্ধারে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থাই এখনো সফল হয়নি। বিভিন্ন চর এলাকায় হেলিকপ্টার দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। যদি কেউ বেঁচে থাকতো তাহলে তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তাই এতদিন পরে স্বজনরা লঞ্চযাত্রীদের বেঁচে থাকার আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তাদের একটাই চাওয়া স্বজনরা লাশটি যেন ফিরে পান।

