ডিসিসি নির্বাচনের ফাঁকা আওয়াজ

প্রকাশিত: August 11, 2014 | সময়: 10:03 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক॥ নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর কথা বলে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করা হলেও গত আড়াই বছরে কিছুই বাড়েনি। বরং আগের সেবাগুলো থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী। ২০১১ সালের ২৯শে নভেম্বর ঢাকাকে দু’ভাগ করা হয়। কিন্তু আড়াই বছরে দেশের সব ক’টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হলেও নানা কৌশলে আটকে রাখা হয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। যদিও প্রায় সারা বছর শোনা যায় নির্বাচনের ফাঁকা আওয়াজ। গত অর্থবছরে নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হলেও এবার তাও রাখা হয়নি। দীর্ঘদিনেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব না হওয়ায় নাগরিক সেবা পেতে নগরবাসীকে পড়তে হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতার ফাঁদে। আর ওয়ার্ডভিত্তিক সেবাগুলোকে আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রদান করায় এ দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন নগরবাসী। তবে বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বর নাগাদ নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র মতে, দু’ভাগে ভাগ করেও ডিসিসি নির্বাচনে ভরসা পাচ্ছে না সরকার। এজন্য সাম্প্রতিক ঘোষিত বাজেটে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। অথচ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থ বছরে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেও পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচনের ঝুঁকি নেয়নি সরকার এমন ধারণা অনেকের। তাই অন্তর্র্বতী প্রশাসক দিয়ে দু’বছর পার করার পর সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা করা হয়েছিল। সরকারের শীর্ষ মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনাও করেছে। আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে সরকারের ভেতরে-বাইরে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ডিসিসির বিদ্যমান আইন। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ এবং জয়ের গ্যারান্টি না পাওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত এটাই বাস্তবায়নের চিন্তা-ভাবনা করে। এজন্য গত জুন মাসে প্রায় ১৫ দিন সংস্থা দু’টির শীর্ষ পদ প্রশাসক শূন্য রাখা হয়।
কিন্তু রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনায় এখান থেকে সরে যায় সরকার। তবে এ বছরের শেষ নাগাদ সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠলে তাৎক্ষণিক এ মেগাসিটির নির্বাচনকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে এমন ধারণা করছেন কেউ কেউ। এদিকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুয়ায়ী, ইতিপূর্বে যাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয় তারা প্রশাসন ক্যাডারের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা। ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হতে পারেন না। এজন্য নগরবাসীর দুর্ভোগ ও জনসমস্যা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারেন না প্রশাসকরা। পরিকল্পনা নিলেও বাস্তবায়নের আগেই অন্যত্র বদলি হয়ে যান। কাজে মনোযোগ দেয়ার আগেই ফুরিয়ে যায় নির্ধারিত মেয়াদ। ইতিমধ্যে পাঁচ জন প্রশাসক মেয়াদ শেষে বদলি হয়েছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনে ফল অনুকূলে নেয়ার সম্ভাবনা তেমন দেখা যাচ্ছে না। ইতিপূর্বে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুরসহ বেশ কটি সিটি করপোরেশন বিএনপির দখলে চলে গেছে। নির্বাচন হলে ঢাকা সিটি করপোরেশনও বিএনপির দখলে চলে যেতে পারে। এ আশঙ্কায় ঢাকা সিটি করপোরেশনকে নিজেদের দখলে রাখার জন্য কৌশল পরিবর্তন করা হচ্ছে বারবার। এতে নাগরিক সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা দু’টি। স্থবির হয়ে আছে বেশির ভাগ উন্নয়ন কার্যক্রম। রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার দেলোয়ার হোসেন সন্তানকে স্কুলে ভর্তির করতে জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য যান স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর দেলোয়ারকে জানানো হয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সকল কার্যক্রম এখন পরিচালনা করা হচ্ছে আঞ্চলিক অফিস থেকে।
তাই সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে দেলোয়ারকে যেতে হয় আজিমপুরের হাজী আবদুল গনি কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত সিটি করপোরেশন দক্ষিণ অঞ্চল ৩-এর অফিসে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর দেলোয়ারকে আরও বেশি হতাশ হতে হয়। কারণ, এ অঞ্চল-৩ এর অফিস থেকেই ১১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বিভিন্ন সেবা দেয়া হচ্ছে। দেলোয়ারের মতো আরও অনেকেই শুধুমাত্র সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য বছরের একটা সময় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অফিসে ধরনা দিতেন। এখন সেই জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়ার কাজটি করতে হচ্ছে মাত্র একটি অফিসের মাধ্যমে। এদিকে হাতেগোনা কয়েকটি সেবা দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। এছাড়া বেশির ভাগ সেবাই প্রদান করছে ভিন্ন ভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ও নেই সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন ব্যতীত আরও কয়েকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নগরের বাসিন্দাদের সেবা দিয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিষ্ঠানটি মূল নগরায়ণের কাজ করছে বলে মনে করেন সবাই। এছাড়া সুপেয় পানির ব্যবস্থা করছে ঢাকা ওয়াসা, গ্যাসের সেবা প্রদান করছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি, বিদ্যুতের দায়িত্বে রয়েছে ডেসকো ও ডিপিডিসি, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। ভিন্ন ভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় একটি প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে গেলে অন্যটার সেবাদানে বাধার সৃষ্টি হয়। সমপ্রতি ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ করেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর তিতাস গ্যাস তাদের নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য রাস্তা খনন শুরু করেছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
ঢাকার মোহাম্মদপুর-আদাবর অঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, তিতাস গ্যাস কোম্পানির সঞ্চালন লাইন বিতরণের কাজ শেষ হওয়ার পর আবার ওয়াসা নতুন করে কাজ শুরু করেছে। ফলে সব প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হলে আবারও এসব রাস্তা সংস্কার করতে হবে সিটি করপোরেশনকে। কথা হয় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সেলর আবুল বাশারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করার ফলে নাগরিক সেবার মান উন্নত হওয়া তো দূরের কথা আগের সেবাগুলোও পাচ্ছে না নগরবাসী। আগে যেখানে একটি নাগরিক সনদপত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র পেতে এক থেকে দু’দিন সময় লাগতো এখন সেখানে এসব ছোট ছোট সেবা পেতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ দিনেরও বেশি। আর দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কাজ করতে চাইলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ‘আমরা যখন কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি তখন বাধ্য ছিলাম জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব আমলাদের হাতে থাকায় নাগরিক সমস্যাগুলো দেখার কউ নেই। আগে যখন কোন ওয়ার্ডে রাস্তা নষ্ট হয়ে যেতো তখন আমরা কাউন্সিলররা নগর ভবনে একটি চাহিদাপত্র জমা দিতাম এ সব কাজের জন্য। আমাদের পাঠানো চাহিদাপত্র যাচাই-বাছাই করে নগর ভবন থেকে এসব কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হতো। পরে পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সে সব কাজ করানো হতো। কিন্তু এখন চাহিদাপত্রও কেউ দেয় না।
আবার কাজও হচ্ছে কিন্তু পত্রিকায় কোনো দরপত্র বিজ্ঞপ্তিও দেখি না। এছাড়া নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় সিটি করপোরেশনের ফুটপাথসহ অন্যান্য সম্পত্তি দখল হয়ে গেলেও তা দেখার কেউ নেই বলে জানান সাবেক এ ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা ফুটপাথ দখল করে সেখানে দোকান ও রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন না হওয়ায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটের কারণে প্রকৃত নাগরিক সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হচ্ছে সিটি করপোরেশন। ঢাকা সিটি করপোরেশন কয়টা সেবা দিয়ে থাকে এবং সেগুলো ভাগ করলে কি এমন সেবার মান উন্নত হবে তা এখনও বোঝাতে পারেনি সরকার। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো প্রধান সেবাগুলোর দায়িত্ব পালন করছে ভিন্ন ভিন্ন সংস্থা, ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশন দু’ভাগ হলেও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এক রয়েছে এবং তাদের সেবা প্রদান একইভাবেই চলছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনসার আলী খান বলেন, ‘আইনে অনেক কিছু থাকলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কারণে অনেক সেবাই দিতে পারছে না সিটি করপোরেশন। আবার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না থাকায় অনেক উন্নয়ন কাজে সমন্বয়হীনতাও দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় সকল প্রকার ভবনের নকশা অনুমোদন দেবে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ঢাকাতে এ কাজ করছে রাজউক। আবার পানির জন্য রয়েছে ওয়াসা, বিদ্যুতের জন্য আরও দুটি কোম্পানি। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে সবসময় কাজ করা হয় না।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০০২ সালের এপ্রিলে। এরপর টানা প্রায় ১০ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। ২০০৭ সালের ১৫ই মে ডিসিসির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু সীমানাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েও জয় হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে বার বার পিছু হটে সরকার। এ পর্যায়ে জয় নিশ্চিত করার জন্য ২০১১ সালের ২৯শে নভেম্বর ডিসিসি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এর পর ২০১২ সালের ২৯শে এপ্রিল বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয় ২৪শে মে। কিন্তু ভোটার তালিকা আর সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় আটকে যায় নির্বাচন। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ই মে উচ্চ আদালত ডিসিসি নির্বাচনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে সরকার আবারও নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করে।
নির্বাচন কমিশনও ডিসিসি নির্বাচনের জন্য উদ্যোগ নেয়। তারা নীতিগত সিদ্ধান্তে উপনীত হয় অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই অংশের নির্বাচন সম্পন্ন করার। এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড়। ফলে ডিডিসির নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র মতে, এই মুহূর্তে ঢাকা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন দিলে সরকারের ভরাডুবির সম্ভাবনা প্রবল। তাই সে ঝুঁকি নিতে চায় না সরকার। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে- স্থানীয় সরকারের যে কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকবেন। ‘আইনে আছে ৬ মাসের মধ্যে যে কোন স্থানে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সরকার চরমভাবে এ আইন অমান্য করে আসছে।’
ওদিকে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনাগ্রহের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন,আমরা বারবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়েছি, কিন্তু আমাদের কথা তারা আমলে না নেয়ায় নির্বাচন করা যায়নি