তারেক মাসুদের চলচ্চিত্র

প্রকাশিত: August 14, 2014 | সময়: 10:01 am

বিনোদন ডেস্ক ॥ বিকল্পধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন তারেক মাসুদ। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে মাটি ঘেষা চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন খ্যাতি ও মানুষের ভালবাসা। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ভিন্ন ধারা যুক্ত করেছিলেন এ ক্ষণজন্মা চলচ্চিত্রকার।
তারেক মাসুদ তার চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছেন সভ্যতার সংকট, আপন সংস্কৃতি, লড়াকু জীবন, স্বপ্ন আর সম্ভাবনা। তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এক নতুন ধারার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে তিনি একটা সুস্থ প্রজন্মকে তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
তারেক মাসুদের চলচ্চিত্র সব শ্রেণীর মানুষের ভাবনার জগৎকে নাড়া দিতে পেরেছিল। তার ছবিতে উঠে এসেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। আর তিনি সেলুলয়েডের ফ্রেমে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন বাঙালির হাজার বছরের লোকাচার।
১৯৮৫ সালে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তারেকের চলচ্চিত্র যাত্রা। এরপর একে নির্মাণ করেন সোনার বেড়ি (১৯৮৯), মুক্তির গান (১৯৯৫), মুক্তির কথা (১৯৯৬), মাটির ময়না (২০০২), অন্তর্যাত্রা (২০০৬), নরসুন্দর (২০০৯) ও রানওয়ে (২০১০)। মৃত্যুর আগে কাগজের ফুল নামে একটা নতুন ছবি নির্মাণের জন্য তিনি কাজ করছিলেন।
তারেক মাসুদ ‘মুক্তির গান’ নির্মাণের জন্য ফিল্ম সাউথ এশিয়ার বিশেষ সম্মাননা (১৯৯৭); ‘মাটির ময়না’ নির্মাণের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসব আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কার (২০০২), কান চলচ্চিত্র উৎসব ডিরেক্টর ফর ফোর্টনাইট পুরস্কার (২০০২), এডিনবার্গ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (২০০২), মন্ট্রিয়েল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (২০০২), আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অব মারাকেশ, বেস্ট স্ক্রিনপ্লে (২০০২), কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (২০০৩), পাম স্প্রিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (২০০৩), নিউ ডিরেক্টর/নিউ চলচ্চিত্র উৎসব (২০০৩), কারা চলচ্চিত্র উৎসব বেস্ট ফিল্ম (২০০৩)সহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। তারেক মাসুদের হাত ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্ব পরিমণ্ডলে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হয়।
তারেক মাসুদের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করেন।