নূর হোসেনকে নিয়ে আগ্রহ হঠাৎ উবে গেছে

প্রকাশিত: August 19, 2014 | সময়: 9:26 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে নিয়ে সরকারের আগ্রহ যেন হঠাৎ করেই উবে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নিয়ে খুব একটা তৎপরতা চালানো হচ্ছে না। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। দিল্লির সঙ্গে নতুন করে কোন যোগাযোগ করছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নূর হোসেনকে ফেরতের বিষয়ে জানালেন, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের জন্য নূর হোসেনকে দণ্ড দেয়া হতে পারে। তবে ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি আমলে নিয়ে স্বল্প মেয়াদের সাজাও দিতে পারে আদালত।

এরপরই তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর আগে ফেরতের প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষণ দেখছি না। সূত্র জানায়, নূর হোসেনকে গত শনিবার ষষ্ঠ দফায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু ওই আদালতের এক আইনজীবীর মৃত্যুতে এ দিন তাকে আদালতে তোলা না হলেও নূর হোসেনকে নতুন করে ১৪ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানো হয়। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার ও ইন্টারপোলে জারি করা রেড অ্যালার্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে আদালতে। এর আগে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় গ্রেপ্তারের আগেই গত ২৭শে মে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ফ্রান্সভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি ২৭শে মে বিকালে তাদের ওয়ানটেড পারসনের রেড ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের নাম সংযুক্ত করে। যদিও রেড ওয়ারেন্টভুক্ত করতে ২২শে মে পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পরে পুলিশ সদর দপ্তর রেড ওয়ারেন্টের জন্য ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়। ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া ছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন চেষ্টা-তদবির করা হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তার বক্তব্য, নিয়ম-কানুন মেনে এগোনো ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই। এখন বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে চলে গেছে। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এর আগে গত ১৬ই জুন নূর হোসেনকে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মারফত ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়। এটি ছিল ভারত সরকারের কাছে প্রথম অনুরোধপত্র। এরপর থেকেই চলছে চিঠি চালাচলি। ওদিকে গত ২৭ শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হওয়ার পর নূর হোসেনের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলে তিনি তা অস্বীকার করেন। পালিয়ে যান ভারতে। নূর হোসেন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় পুলিশ, সীমান্তে জারি করা হয় সতর্কতা। এর মধ্যেই ১৪ই জুন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বাগুইআঁটির একটি বাড়ি থেকে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাসহ অভিযোগ দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গত ১৫ই জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়া হয়। এরপর থেকে কয়েক দফা তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। অবস্থায় সরকারের তরফ থেকে নূর হোসেনকে ফেরানোর কোন তাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মানবজমিন