বিনোদন ডেস্ক ॥
ঢাকা: দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যস্ততা আমাদের গ্রাস করছে। আর এ ব্যস্ততার কারণে আমাদের জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে জটিল থেকে জটিলতর। তবে এ ব্যস্ততা কমানোর কিছু উপায়ও রয়েছে, যা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে কমতে পারে ব্যস্ততা।
এ বিষয়ে টনি ক্র্যাবল তার বই ‘বিজি: হাউ টু থ্রাইভ ইন এ ওয়ার্ড অব টু মাচ’-এ জানিয়েছেন, ক্রমাগত একসঙ্গে একাধিক কাজ করা আমাদের উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। আর তাই আমাদের কাজের গতি কমে যায় এবং পাশাপাশি মানসিক নানা সমস্যাও গ্রাস করে। তবে কাজের সময় বাড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলেই জানান ক্র্যাবল। এর পরিবর্তে ক্র্যাবলের পরামর্শ হলো, আমাদের সবকিছু একাই করে ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। এ লেখায় থাকছে ব্যস্ততা কমানোর সহজ তিনটি উপায়, যা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
১. ই-মেইল নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
আপনার দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে ই-মেইল। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সারাক্ষণ মেইল পাওয়ামাত্রই তা নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে। মেইল আসার সঙ্গে সঙ্গে তার নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিন। তার বদলে নির্দিষ্ট একটি সময় পর পর মেইল চেক করুন। এ ছাড়াও কোনো কাজ শেষ হওয়ার পর মেইল চেক করার ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
এ ছাড়া দিনের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করুন। এ সময় মেইল বা এ ধরনের বিষয় যেন আপনাকে বিরক্ত করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নিন।
সাইকোলজিস্ট সাবিনা রিড জানান, একটি ই-মেইল অ্যালার্টের কারণে প্রত্যেকবার অফিসের কর্মীরা গড়ে ১৬ মিনিট সময় ব্যয় করে। এ কারণে দিনে তিন থেকে চারবারের বেশি ই-মেইল চেক করা উচিত নয় বলে জানান সাবিনা।
২. বিরতি নিন
কাজে বিরতি নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে কর্মোদ্যম ও মনোযোগ ধরে রাখার জন্য এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মিটিংয়ে বা ব্যস্ততার সময়ে বিরতি নেওয়া যদি সম্ভব নাও হয় তাহলেও অন্য সময়ে বিরতি নেওয়া যেতে পারে। আর এ বিরতি আপনার কর্মোদ্যম বাড়িয়ে তুলবে অনেকখানি।
বড় কোনো বিরতি নেওয়া সম্ভব না হলে ছোট ছোট বিরতি নিতে চেষ্টা করুন। একটি ২০ মিনিটের বিরতি নিয়ে কিছুটা হেঁটে আসলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।
৩. প্রয়োজনে কম কাজ করা শিখুন
কাজের পর কাজে লাফিয়ে চলে যাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। তার বদলে অপছন্দের কাজ বাদ দেওয়ার পদ্ধতি আয়ত্ব করুন।
এ প্রসঙ্গে সাবিনা বলেন, ‘নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, এতে সবচেয়ে বাজে কি বিষয়টি হবে? এরপর সঠিক পয়েন্টটি না পাওয়া পর্যন্ত মনে করুন যে, এটি ছাড়াই আপনি চলতে পারবেন। আপনার ক্লায়েন্টও এটি ছাড়া চলতে পারবে।’
তিনি আরও জানান, সব সময় ব্যস্ত থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করে।
‘আমাদের কাজের বাইরে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। এতে বাস্তবে আরও সমস্যা তৈরি হয়। অনেকেরই সম্পর্ক ভেঙে যায় একং অসুস্থতা গ্রাস করে।’ বলেন সাবিনা।

