বিএনপি প্রতি নাখোশ জামায়াত

প্রকাশিত: August 21, 2014 | সময়: 10:16 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে গ্রেফতারে প্রতিবাদে জোটের প্রধান বিএনপি কোনো প্রতিবাদ না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত-শিবির নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তাদের ক্ষোভের বিষয়টি শোনা যায়। তারা বলেন, “জোটের নেতা হিসেবে তাদের প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা করেন নি। রিমান্ডে নিয়ে সুস্থ মাসুদকে অসুস্থ করে ফেলেছে। হাঁটতে পারছেন না। উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তৃতীয় দফায় আবারো চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে, মানবিক দৃষ্টিতে একজন নাগরিকের নিরাপত্তার জন্যও এর প্রতিবাদ জানানো দায়িত্ব। বিএনপি সে সম্পর্কে উদাসীন।”
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিএনপি বরাবর এই ধরনের আচরণ করেছে। এখনো একই আচরণ করছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী গ্রেফতার হলে তারা কখনোই এর প্রতিবাদ করেনি। বৃহত্তর স্বার্থের কারণে আমাদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। সময় হলে এসবের জবাব দেয়া হবে।”
তিনি বলেন, “বিএনপির বোঝা উচিত জামায়াত কারো ওপর নির্ভরশীল দল নয়। সাংগঠনিক শক্তি, সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান করছে।”
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “রমযান পর থেকে শুরু করে সারাদেশে প্রায় তিনশ’ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা।”
সব কিছু মিলিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক সুখকর পর্যায়ে নেই। পরিস্থিতির কারণেই তা প্রকাশ পায় না।
ঢাকা মহানগর পর্যায়ের নেতা ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ঘনিষ্ট একজন বলেন, “তার অবস্থা ভালো না। তিনি দাঁড়াতে পারছেন না। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। একদিকে কাত হয়ে শুলে অন্যদিকে ঘুরতে পারেন না। যদি কেউ ধরে না ঘুরিয়ে দেয়। এখন তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “মাসুদের স্ত্রী কারাগারে স্বামীকে দেখতে যেতে পারেন না। তার ভয়, যদি তাকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের একটি পাঁচ বছরের শিশু সন্তান রয়েছে।”
ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন মাসুদের স্ত্রী ডা. ফারহানা মাসুদ সরকারের জানতে চেয়েছেন, “একজন সুস্থ মানুষ রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন পার হতে না হতে কিভাবে নিবির পর্যবেক্ষণে (আইসিইউতে) যান। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের কাছে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান তার স্ত্রী।”
উল্লেখ্য, গত বছর মার্চে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় মাসুদের স্ত্রীকে আটক করেছিল র্যাব।
শিবিরের একজন সম্পাদক পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “বিএনপির কোনো নেতা নির্যাতনের শিকার হলে জোটের শরিক জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু বিএনপি বরাবরই চুপ থেকেছে। কোনো বিষয়ে তাদের স্বার্থ জড়িত থাকলে তখন তারা কথা বলে। স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে চুপ হয়ে যায়।”
শনিবার মাসুদকে রিমান্ডে নির্যাতনের প্রতিবাদে শিবিরের পক্ষ থেকে আবারো কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে সবসমই জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত-শিবিরের প্রশ্ন ছিল। বুধবার রাতে নতুন বার্তার সঙ্গে আবারো সেই প্রশ্ন তোলেন শিবিরের এই নেতা।
তিনি বলেন, “ভেবেছিলাম এবারে হয়তো তাদের কিছুটা পরিবর্তন আসবে। কিন্তু যে অবস্থায় চলতে শুরু করেছে, তাতে মনে হয় আবারো আগের চেহারায় ফিরে যাবে। আমরা আগের মতো ঝুঁকি নেব না। এককভাবে ঝুঁকি নিলে আমাদের জানমালের ক্ষতি বেশি হয়।”
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “দুই দফা রিমান্ডে মাসুদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় যখন তার উন্নত কিৎসা করা দরকার, ঠিক তখনই ধানমন্ডি থানার নয় মাস আগের একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করার জন্য আবারও চার দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। যা সংবিধান, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।”