ম্যানুয়েল ক্লিয়ারেন্স ॥ বেনাপোলে পণ্য খালাসে অযথা সময় নষ্ট

প্রকাশিত: August 27, 2014 | সময়: 9:03 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: ম্যানুয়েল ক্লিয়ারেন্স পদ্ধতিতে কার্গো পণ্য তদারকি করার ফলে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য খালাসে অযথা সময় নষ্ট হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমদানি-রপ্তানি এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপর।

এছাড়া এ পুরাতন পদ্ধতিকে পুঁজি করে বন্দরে গড়ে উঠেছে একটি অসাধু চক্র। যাদের কারণে সরকার প্রতিবছরই বঞ্চিত হচ্ছে বড় ধরনের রাজস্ব থেকে।

ইতোমধ্যে বন্দরে দ্রুত পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে অটোমেশন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এনবিআর বেনাপোল বন্দরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে দ্রুত কার্গো পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে পুরাতন ক্লিয়ারেন্স পদ্ধতিকে অন্যতম বাঁধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই গবেষণাপত্রে।

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফআইসি) সহায়তা ‘বাংলাদেশ টাইম রিলিজ স্টাডি (টিআরএস)’ শীর্ষক এ গবেষণা পরিচালনা করে বেনাপোল বন্দর কাস্টমস হাউজ। এছাড়া ওরজ-কোয়েস্ট রিসার্চ লি. (ওর-কোয়েস্ট) এ গবেষণায় সার্বিক সহযোগীতা করেছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দর টিআরএস জরিপ এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক’র (এডিবি) দক্ষিণ এশিয়া সামাজিক ও অর্থনীতি ঋণ প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, বেনাপোল বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিক উৎপাদন ও পচনশীল পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ বিল পণ্য ক্লিয়ারেন্সের জন্য জমা হয়। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫শ’ বিদেশি যাত্রী এ বন্দর দিয়ে ভ্রমণ করে।

২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত ২২৬ জন রপ্তানিকারক ও ২৯৭ জন আমদানিকারকের প্রশ্নের ওপর পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

একই সাথে বন্দরে সময় বাঁচানোর বিষয়ে বেশি কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জুলাই প্রতিবেদন পেয়েছেন এবং শীঘ্রই তা প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে; টিআরএস’র মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ (সিসিএইচ) আমদানি ও রপ্তানিতে ধীরগতি বিষয়ে একই গবেষণা শুরু করবে।

বেনাপোল বন্দরের গবেষণায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে সাতদিনের মধ্যে আমদানি করা সকল কার্গো কিভাবে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্গো চারদিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে তা উঠে এসেছে এ গবেষণায়।

গবেষণায় বৈধ বাণিজ্য সহজতর করতে সময় বাঁচানোর বিষয়ে এনবিআরকে কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণায় পণ্য ও শুল্ক মুক্তির বিলম্বিত ক্লিয়ারেন্সের জন্য বিদ্যমান ম্যানুয়েল পদ্ধতি ও পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়াকে দায়ি করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যবসায়িদের প্রভাব পাওয়া যায়নি।

অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়াতে কাস্টমস, অন্যান্য সরকারি সংস্থা, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ক্লিয়ারিং ও ফরোয়ার্ডিং এজেন্টকে পদ্ধতি ও অনুশীলন বিষয়ে সচেতন হতে সুপারিশ করা হয়।

এ পদ্ধতির ফলে কর ফাঁকি বেড়ে যাবে। ব্যবসায়িদের এ পদ্ধতি থেকে মুক্তি ও ঝুঁকি মুক্ত করতে ইলেট্রনিক পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত এবং আরামে ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টিতে ও সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে দেশের বৃহত্তম এ স্থলবন্দরের অবাঞ্চিত সময় নষ্ট বিষয়ে স্বল্প, মধ্য অথবা দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ নিতে বলেছে।

আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য ঘোষণা, প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শতভাগ আরামদায়ক পদ্ধতি গ্রহণে পাইলট প্রোগ্রাম নিতেও বলা হয়েছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য কাস্টমস পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিটের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া উচিত। ঝুঁকি এড়াতে কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে অন্যান্য সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে সুপারিশ করা হয়েছে।

পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় নষ্টের বিষয়টি চিহ্নিত করে সময় বাঁচাতে সব সংস্থার মধ্যে উন্নত যোগাযোগের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনা করা যেতে পারে।

পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে পচনশীল পণ্য পরিবাহী ভারতীয় ট্রাক একটি নিদির্ষ্ট বন্ড আমদারিকারকদের অধীনে দেওয়া উচিত।

কার্গো ক্লিয়ারেন্স, ব্যবস্থাপনা অনুমতি, কর্গো পরীক্ষণসহ অন্যান্য বিষয়ে একটি আন্তঃবিভাগীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে পরিচালনা করা উচিত।

সময় বাঁচানো, উন্নতি ও দ্রুত পণ্য আদান প্রদানের আরো কৌশল অবলম্বনের জন্য জাতীয় রাজস্ব থেকে ব্যবসায়িদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা দরকার। পাইলট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুফল পাওয়া যাবে।

জাপান ও যুক্তরাজ্য টিআরএস অনুসারে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশন (ডব্লিউসিও) মাধ্যমে কাস্টমস হাউজে সেবা বৃদ্ধি করেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশ দুইটি সীমান্তে কাস্টমস কার্যক্রম আরো গতিশীল, ব্যবসা সহজ করতে ম্যানুয়েল পদ্ধতির পাশাপাশি ইলেট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

এ প্রতিবেদন অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খুব শিগগিরই এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাঁধা দূর করার জন্য ব্যবস্থা নেবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম