জেলা প্রতিনিধি,
পদ্মার বুকে ঘুরে: পদ্মা নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কেউ নিচের ঘর সরানোর জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ আবার কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন সেই চিন্তা করছেন।
দোহার থানা নারিশা ইউনিয়নে মেঘনা রাণীপুর এলাকায় ২মাসের টানা ভাঙনে ২৫০ পরিবারের ভিটেমাটি পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে কমপক্ষে ১৫শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে আছে ৪ শতাধিক পরিবার।
এসময় কেউ কাউকে সহযোগিতা করতেও পারছে না। কারণ সবাই নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছে। ঘর সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় মিস্ত্রীও পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মিস্ত্রী পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।
মেঘনা রাণীপুর ভাঙন এলাকায় গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। যেন নদীর ভাঙনের সঙ্গে মানুষের চোখের পানিও ঝরছে সমান তালে। একটু সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যও আসছে না কেউ।
ভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়া জমশের আলী (৪৫) জানান, গরীব মানুষের খেটে খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। কাজ করেই আমাদের খেতে হয়। ভাঙনের কারণে কাজ করতে পারছি না। নিজের ঘর সরানো নিয়েই ব্যস্ত রয়েছি।
তিনি বলেন, এক দিকে ঘরে খাবার নেই, অন্য দিকে কাজ নেই, বাড়িও গেছে নদীতে। কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। প্রতিবেশী কারো কাছ থেকে সহযোগিতা নেব সেটাও পারছি না। কারণ আমার মত সকলের একই অবস্থা।
কাশেম খলিফা বলেন, কৃষিকাজ করি, অবসরে নদীতে মাছ ধরে আয় করি। কিন্ত এবার নদীভাঙনের কারণে কোনো কাজ করতে পারছি না।
৪ ছেলে দীন ইসলাম (১৩), নূর ইসলাম (১১), রাসেল (৭), রাকীব (৩) ও মেয়ে কাজল (৫)। সবাই স্কুলে লেখা-পড়া করে। নদী ভাঙনের কারণে ছেলে-মেয়েগুলোর লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমি কিভাবে ওদের পড়া-লেখার খরচ চালাবো।
শুকুর মাদব্বর (৬০) বলেন, এই বয়সে দুইবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি কিন্ত আমি ভেঙ্গে পড়ি নাই কারণ সরে যাওয়ার জায়গা ছিল। এবার নদী ভাঙনে আমার আবাদী জমিসহ ঘর-বাড়ী নদীর পেটে চলে গেছে। থাকার মত একটু জায়গা নেই।
বয়সের ভারে নিচের চলা-ফেরা করাই অসম্ভব। ৩ মেয়ে শাহীনুর, কহিনুর, শারমিন ও ছেলে মিরাজ। মেয়েদের সবার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছেলে আমার সঙ্গে কৃষিকাজ করে।
তিনি বলেন, এই ভাঙনে মেয়ে-জামাইদের বাড়িও নদীর পেটে। পরিবারের সবাই মিলে এক সঙ্গে বিপদে পড়েছি।
তিনি বলেন, আগুনে পুড়লে জমি থাকে কিন্ত নদীতে ভাঙলে কিছু থাকে না। শুধু হারিয়ে যাওয়া কষ্টের স্মৃতি সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। নারিশা ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল হক মাদব্বর বলেন, যেভাবে পদ্মা নদীতে ভাঙছে তাতে ইউনিয়নের আয়তন ছোট হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ভাঙন কবলিতরা উপজেলার বাইরে তেমন না গেলেও ইউনিয়নের বাইরে অনেকে চলে যাচ্ছে। ভাঙন কবলিতদের নগদ ২ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাউল দেওয়া হয়েছে। অনেকে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার কারণে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

