স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিভক্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টিতে।
আর এ বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মরণাপন্ন হয়েছেন পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
জানা যায়, বিরোধীদলীয় উপনেতা পদ নিয়ে এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে স্পষ্টত দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। একজন আরেক জনের অনুপস্থিতিতে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা পদে পছন্দের প্রার্থীর নাম দিয়েছেন।
সর্বশেষ, সোমবার জাতীয় সংসদে এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধীদলের সংসদীয় উপনেতা মনোনীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এমনকি তাকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দফতের একটি চিঠিও পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, একদিন পরেই পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ কাজী ফিরোজ রশীদকে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা না করার বিষয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন।
ফলে, জাতীয় পার্টির দু’গ্রুপের মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন দলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা। আর এ সম্যার সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারস্থ হয়েছেন এরশাদ।
মঙ্গলবার সংসদে মাগরিবের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ কার্যালয়ে এরশাদকে যেতে দেখা যায়। তিনি ফিরোজ রশিদকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করায় নিজের অসন্তোষের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তবে কতক্ষণ তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, সে বিষয়ে কিছুই নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফিরোজ রশীদকে উপনেতা করার বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচনের দায়িত্ব বিরোধীদলকেই নিতে হবে। এখানে স্পিকারের কিছু করার নেই। কার্যপ্রণালী বিধিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচনের এখতিয়ার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ নেই।
তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধিতে বলা আছে, দলটির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তিতে, অন্যখানে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে এ পদে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ কোনো কথা বলেননি। এ সময় তার সঙ্গে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুও উপস্থিত ছিলেন।

