স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের রায় ঘোষিত হবে আজ। সম্ভাব্য এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির। অতীতের মতো রায় ঘোষণার দিন হরতাল না দিয়ে এবার কর্মসূচি গ্রহণে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন কৌশল। প্রথমত বুধবার রায়পরবর্তী তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ এবং বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
ফাঁসির রায় বহাল থাকলে আগামী রবিবার থেকে টানা হরতাল দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাবজ্জীবন হলেও বৃহস্পতিবারও হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত দলীয় হাই কমান্ডের পৃথক কয়েক দফা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াতের মজলিসে শূরার দুজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের কাছে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই দুই সদস্য কোনও অবস্থাতাতেই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে নারাজ।
বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, সাঈদীর রায়ের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আসন্ন আন্দোলন। সাঈদীর ফাঁসির রায় হলে এক্ষেত্রে বিএনপির মনোভাব যদি ইতিবাচক হয় তাহলে প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলনের ভাষা হবে অত্যন্ত সহিংস।
এ আন্দোলন-কর্মসূচিকে আগামী কোরবানির ঈদের আগ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে ঈদের পর সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে জোটসঙ্গী বিএনপির মতামত গ্রহণ করা হবে বুধবারের মধ্যে। পরামর্শ করা হবে ২০ দলীয় জোটের প্রতিটি দলের সঙ্গেই।
ইতোমধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বিচারের নামে কোনও অবিচার জনগণ মেনে নেবে না। প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন অসংখ্য আলেম ওলামা। ষড়যন্ত্র ধাবিত হচ্ছে দ্রুতগতিতে। সবাই সতর্ক থাকুন। সজাগ থাকুন। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুচক্রীদেরকে বলছি, মনে রাখবেন, একদিন অবশ্যই মহান আল্লাহ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
জানা গেছে, বুধবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এই প্রতিক্রিয়া হবে সহিংস। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মাহফিল করার জনপ্রিয়তাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো হবে এক্ষেত্রে।
শিবিরের একজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, মাওলানা সাঈদীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সারাদেশেই ইসলামী বক্তা হিসেবে অনেক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। প্রথমত, রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এই বিষয়টি কাজে লাগানো হবে। এরপর রায় খুব বেশি প্রতিকূলে না গেলে হরতাল দিয়েই ক্ষান্ত থাকবে জামায়াত-শিবির। তবে যদি রায় মনঃপুত না হয় সেক্ষেত্রে হরতালের পরিধি বেড়ে আগামী সপ্তাহে গিয়ে ঠেকতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করলে জামায়াতের প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের সেলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে ছাত্রশিবিরের প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি জামাল উদ্দীন বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন,সাঈদীর সাহেবের রায় ঘিরে বিকেল থেকে সারাদেশে নেতাকর্মীরা জানতে চেয়েছেন। এটুকু বলতে পারি, সাঈদীর বিষয়ে কোনও ছাড় নয়। আর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তবে সুপ্রীম কোর্টের কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি। কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে জামায়াত। কাল রায় হোক এরপর প্রতিক্রিয়া। এরপর কর্মসূচি।

