বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলের গঠনতন্ত্র, নীতি আদর্শ বিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ড করলেই ছাড় পাবেন না কেউই। ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল ও সরকার নেবে না। যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তারা ছাড় পাচ্ছেন না।
দলের সদ্য সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে সাংগঠনিক শাস্তির মাধ্যমে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রায় দুই ডজন মন্ত্রী-এমপি ও নেতা এখন প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নজরদারিতে।
সূত্র জানিয়েছে, যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সুরাহা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রকম অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ থাকছে না। অবৈধ সম্পদ অর্জনে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি গ্রেফতার হয়েছেন। অনেক চেষ্টা করেও সরকার ও দলের সহযোগিতা পাননি তিনি। এক্ষেত্রে সরকার হার্ডলাইনেই থাকবে। এসব ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান খুবই কঠোর। আইন তার নিজস্ব গতি থেকে যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকটিও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। গত রবিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীতে দলীয় নীতি-আদর্শ ও সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যত বড় নেতাই আপত্তিকর বক্তব্য রাখুন, কর্মকাণ্ড করুন আগামীতে তাদের আবদুল লতিফ সিদ্দিকীরই ভাগ্য বরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।
দলীয় সূত্রমতে, ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে যে বিতর্ক আছে, আইনের শাসন নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটাতে চায় সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমত ইতিবাচকভাবে ধরে রাখতে সরকার শুধু বর্তমান নয়, গত সরকার শাসনামলে অনিয়ম করে যারা পার পেয়েছিলেন তাদেরও আইনের আওতায় আনবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোও সচল করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিগত সরকার আমলের কয়েকজন মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে দুর্নীতি কমিশন দুদকে মামলা চলছে। দুদকের মামলা তদন্তাধীন ও এ তালিকায় যারা রয়েছেন, তাদেরও আগামীতে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের বিগত আট মাসের ১০০ এমপির আমলমানা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যাওয়ার আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব টিম ওই জরিপ তার হাতে তুলে দেয়। এতে প্রায় অর্ধশত এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্য থেকে অনেককেই প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বাকিদের সতর্ক করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। গত রবিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বক্তব্যে ও কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল ও সরকার বহন করবে না। সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ কারও ব্যক্তিগত অপকর্ম ও দায় নেবে না। এ কারণেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় দলের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীতেও এ প্রক্রিয়া ধরে রাখবেন, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবেন না।

