বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা : বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. দুরুল হুদা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার দাবি করেছেন।
সেই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তিযোদ্ধাদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দুরুল হুদা বলেন, অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে যুদ্ধ করেছি। কিশোর বয়সে ভারতে পালিয়ে গিয়ে শিলিগুড়িতে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরি। যুদ্ধ সময়কালের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার দোরশিয়া গ্রামে ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানি বাহিনী মসজিদের ইমাম মাওলানা সোলায়মান এবং মুক্তিযোদ্ধা বইউদ্দিনের পিতা শুকুরউদ্দীন মণ্ডলসহ ৩৯ জনকে মসজিদের ভিতরে একসঙ্গে হত্যা করে। ওই গ্রামসহ আশপাশের অনেক গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর যখন দেখি ক্ষমতা ও টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়া যায় তখন হারানো স্বজনদের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সব সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানই বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা হলেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। অথচ আজ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী, স্বাধীনতাবিরোধী এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা যেমন জাতির কাছে ঘৃণিত, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারাও তেমনি ঘৃণিত। স্বাধীনতাবিরোধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। জাতি এ বিচারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতো করে জালিয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের জন্যও একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। ওই আদালতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান বিনষ্টকারী জালিয়াতদের বিচার হলে তাও জাতি সমর্থন করবে এবং এতে সঠিক তালিকা প্রণয়নের কাজটিও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল রাজশাহী বিভাগের সাবেক এ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ একবারই হয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও একটাই হওয়া উচিত। এটি সঠিক করার জন্য সর্বপ্রথম ভারত সরকারের তৈরি করা তালিকা প্রকাশ করা উচিত। তারপর এর সঙ্গে দেশের মধ্যে কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, মান্নান ভূঁইয়া বাহিনী, লতিফ মির্জা বাহিনী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সব গ্রুপের তালিকা সমন্বয় করলেই একটি সঠিক তালিকা তৈরি করা সম্ভব।বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে দুরুল হুদা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব। মুক্তিযোদ্ধারা লালবই বা সবুজ বইয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত থাকতে চান না। তাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে আখ্যায়িত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্থায়ী তালিকা প্রণয়ন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। সে কারণে অতি দ্রুত একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশ ভালো চলছে। তবে আজ দেশে নানা কারণে দুরবস্থা চলছে। চলছে অস্থিরতা। সুশাসনের বড় অভাব। গণতন্ত্র চর্চায় কোনো মহলই সহনশীল নয়। সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। যোগ্য মানুষ নেই যোগ্য স্থানে। অরাজনীতিকদের হাতে চলে যাচ্ছে রাজনীতি। তাই এ অবস্থার অবসান দ্রুত হওয়া উচিত। তা না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন এ মুক্তিযোদ্ধা।
সূত্র: বিডি-প্রতিদিন

