আওয়ামী লীগের বৈঠকে শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষতি চাইলে উপযুক্ত জবাব

প্রকাশিত: October 25, 2014 | সময়: 11:05 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বক্তব্য দেন ষ ছবি: পিআইডিপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে। ইশতেহার অনুযায়ী সরকার চলছে, চলবে। কেউ যদি জনগণের ক্ষতি করতে চায়, তাহলে অবশ্যই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমরা জনগণের কল্যাণে আছি।’
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর জনসভায় খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেখলাম, বিএনপির নেত্রী জনসভা করে সরকার উৎখাতের আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমাদের উৎখাতের আন্দোলন করতে গিয়ে উনার নিজের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে, এটা তিনি দেখছেন না।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে। সিপিএ ও আইপিইউতে জয়ী হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই অর্জন একটা ইতিহাস। এটা আর কেউ করতে পারেনি। এটা গণতন্ত্রের বিজয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ স্বস্তিতে আছে। এটাকে কেউ যেন নস্যাৎ করতে না পারে। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন মানেই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য, মানুষ খুন করা। ৫ জানুয়ারির আগে তারা এটা করেছে। এ রকম আর হতে দেব না। কেউ করতে চাইলে সহজে ছেড়ে দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে মানুষ মধ্যবিত্ত ও ধনিক শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। চোখের সামনে অনেককে এ রকম ধনী হতে দেখেছি। নিম্ন আয়ের মানুষ দারিদ্র্য থেকে উঠে এসেছে।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনার জন্য ছিল ভাঙা স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি। উনি নিজের দিকটা দেখুক না, কতটুকু সচ্ছলতা এসেছে। বাড়িবদলের সময় দেখা গেছে, বিদেশি টাইলস, দামি ফার্নিচার, বাতি, শিফন শাড়ি। এক গজের দাম এক হাজার ডলার। একেক খানা শাড়ির তিন-চার লাখ টাকা দাম। বার্মিজ রুবি, ব্ল্যাক ডায়মন্ড মিলিয়ন ডলারের বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখন মামলার তারিখ হলেই তিনি হরতাল দেন, জনসভা করেন। কিন্তু হাজিরা দেন না। গেলে তো ধরা পড়ে যাবেন। এ জন্যই হরতাল দেন, অসুস্থতার ভান করেন। তিনি বলেন, এতিমের টাকা মেরে দিয়ে ডায়মন্ড, বিলাসিতা, বিদেশি দামি জিনিস ব্যবহার করেন। তিনি ভয় পান বলেই পালান।
কোনো দেশ বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি বলে খালেদা জিয়া যে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এতটা অজ্ঞতা নিয়ে কীভাবে তিনি দুবারের প্রধানমন্ত্রী হলেন? তিনি একটি দলেরও প্রধান। একটা রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় আরেকটি রাষ্ট্রকে। এখানে সরকারের কোনো স্বীকৃতির বিষয় নয়।’
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আরেকজন ভাইস চেয়ারম্যান তাঁর উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেন। তিনি জালিয়াতির কারণে ফৌজদারি মামলায় আটক হয়েছেন। আমেরিকায় এফবিআইকে ঘুষ দেওয়ার চিন্তা করাই অপরাধ। অথচ সেখানে বিএনপির এক লোক ঘুষ দিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এরা নিজের দেশে দুর্নীতি করে, অন্য দেশেও জালিয়াতি করে।’