জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ॥ হরতালে উদ্বিগ্ন ২১ লাখ পরীক্ষার্থী

প্রকাশিত: October 30, 2014 | সময়: 12:04 pm

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরুর দিনই জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে এই দুই পরীক্ষার প্রায় ২১ লাখ পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা। আর হরতালের মধ্যে পরীক্ষা হবে কি হবে না সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার পর্যন্ত সিদ্ধান্ত না জানানোয় এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী ২ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলীয় প্রধানের ফাঁসির রায় হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার এবং ২ ও ৩ নভেম্বর হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২ ও ৩ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা আছে। তাই হরতাল ঘোষণার পর থেকেই অভিভাবকেরা প্রথম আলোয় ফোন করে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান। একই সঙ্গে তাঁরা জানতে চান হরতালে পরীক্ষা হবে কি না।
গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকেরা হরতালে পরীক্ষা হবে কি না তা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে জানতে চান। কিন্তু এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলেননি মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি (পরীক্ষা পেছানো) এখনো বিবেচনায় নিচ্ছি না। বরং যারা হরতাল দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে, তারাই হরতাল প্রত্যাহার করুক। বাধা দূর করার দায়িত্ব তাদের, যারা হরতাল ডেকেছে।’ মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও উদ্বিগ্ন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রমতে, আগামী শনিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। ফলে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আরও দুই দিন উদ্বেগের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।
পরীক্ষার কারণে হরতাল প্রহ্যাহার করা হবে কি না তা জানার জন্য জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ‘জিরো টলারেন্স’: আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো হবে। কোচিং সেন্টারগুলোর ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। তারা যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কোনো তৎপরতা চালাতে না পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজর রাখবে। আর প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়ালে দণ্ডনীয় অপরাধের মধ্যে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও যাতে এ নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা না চালাতে পারে সে জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের কার্যক্রম তদারকির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসেনকে প্রধান করে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে, যার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে ফাঁসের প্রমাণও মেলে, যা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা হয়।
বেড়েছে পরীক্ষার্থী: দুপুরে মন্ত্রণালয়ে এই পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এই দুই পরীক্ষায় গতবারের চেয়ে মোট পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৬ জন। এবার মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে জেএসসি পরীক্ষার্থী ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৫ জন এবং জেডিসি পরীক্ষার্থী তিন লাখ ২৬ হাজার ৯৭ জন। সারা দেশে ২৭ হাজার ৯২৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হবে।
এবার শিক্ষা বোর্ডগুলো আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেবে। কয়েক বছর ধরে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছিল। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সব বোর্ডে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ বছর গণিত বিষয়ের পরীক্ষাও হচ্ছে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে। অর্থাৎ এবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি ছাড়া সব বিষয়ের প্রশ্নপত্র হচ্ছে সৃজনশীল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম প্রমুখ। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক