বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা : নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির বর্তমান দায়িত্বশীল নেতা সালেহীন, সোহেল মাহফুজ তরিকুল ও তিতুমীরসহ শতাধিক নেতা ভারতে বসেই বাংলাদেশে একযোগে বড় ধরনের হামলার ছক আঁকছেন। বিশেষ করে সোহেল মাহফুজ ভারতে বসে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহার করে দেশে অবস্থান করা জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাবতীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি সালাহউদ্দিন সালেহীনকে মুক্ত করে জঙ্গিরা। এ ঘটনার পর তাদের মনোবল আরও চাঙ্গা হয়। এরপর তারা লক্ষ্যস্থির করে যে, সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করে একদিন ইরানের মতো সারা দেশের জেলা ও থানায় হামলা চালিয়ে ইসলামী শাসন চালু করবে। সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তারা কে কীভাবে কার মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন তারও বিস্তারিত তথ্য দেন।এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে জেএমবিবিরোধী চিরুনি অভিযান শুরু হওয়ায় সেখানে নিজেদের আর নিরাপদ মনে করছেন না পালিয়ে থাকা এই জঙ্গি সদস্যরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন দেশে ফিরেছেন। অনেকেই আছেন ফেরার অপেক্ষায়। ফিরে আসার পর অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন রাজধানীর তুলনামূলক অনুন্নত এলাকাগুলোয়। তাদের কেউ কেউ যাত্রাবাড়ী ও তুরাগ এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া জবানবন্দি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া জেএমবির গায়রে এহসার মো. আবদুন নূর (৩১) তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ১৯৮৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর জাইগীর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে কানসাট আলিয়া মাদ্রাসায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি সুন্দরবন থেকে মধু কিনে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় ছয়টি ডাকাতির মামলা আছে। কোটালীপাড়া থানার একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি ছয় বছর জেল খাটেন। এ সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় তরিকুল (৪০) ও মাসুম (৪৫) নামে দুই ব্যক্তির। ২০১০ সালের শেষ দিকে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওই দুই ব্যক্তির প্রস্তাবে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। তার মুক্তির অল্প কয়েক দিন পর তরিকুলও কারাগার থেকে ছাড়া পান। পরে তারা একত্রিত হয়ে জেএমবির কাজে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তরিকুলকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালায়। তরিকুল বাড়িতে না থাকায় অভিযানের খবর পেয়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তরিকুলের কথা অনুযায়ী আবদুন নূর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেএমবির প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করেন। ভারতে পালিয়ে থাকা জেএমবি নেতা তরিকুল মোবাইল ফোনে তাকে সাংগঠনিক বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিতেন। একসময় তরিকুল ফোন করে সংগঠনের কাজে আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্য তাকে ভরতে যাওয়ারও পরামর্শ দেন। এ প্রস্তাবেও রাজি হন আবদুন নূর। জেএমবির আরেক গায়রে এহসার মো. নুরুজ্জামান আরিফ (২৩) তার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের গোবিন্দনগরে। গত রমজানে পুরান ঢাকার বংশালে একটি লাইব্রেরিতে ইসলামি বই কিনতে যান। সেখানে জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় আমির নাঈমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরে তিনি জেএমবির সক্রিয় সদস্য হয়ে কাজ শুরু করেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আবদুল্লাহ আল তাসনিম নামে জেএমবির এক নেতা তাকে গায়রে এহসার পদটি দেন। এর কিছু দিন পর তাসনিম গ্রেফতার হন। জেএমবির অন্য সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ তার জবানবন্দিতে বলেন, ভারতে পালিয়ে থাকা জেএমবি সদস্য মহব্বত ওরফে তিতুমীরের মাধ্যমে তিনি জেএমবির একজন কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি জেএমবির হয়ে কাজ করেন। গ্রেফতার হওয়া ফারুক আহমেদ (৩২) জানান, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি জেএমবির হয়ে কাজ শুরু করেন।
-বিডি-প্রতিদিন

