বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগে ইদানীং যে নিজেদের মধ্যেই মারামারি-হানাহানি ছড়িয়ে পড়ছে, তার মূলে রয়েছে কমিটি নিয়ে কামড়াকামড়ি।
সাম্প্রতিককালের সংঘাতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ইস্যু যা-ই হোক না কেন, জড়িতরা সবাই কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বমান পক্ষের নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে জেলা ও তৃণমূলের যেসব কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে গেছে, সেগুলোতে রয়েছে নতুন কমিটিতে ঢোকার লড়াই। আর যে কমিটিগুলো নতুন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে রয়েছে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটি গঠনের অভিযোগের আগুন। মাঝেমধ্যেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠে ছারখার করে দিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্রসংগঠনের সব সুনাম; ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছে অতীত গৌরব।
সংঘাতের মূলে কমিটি
অনুসন্ধানে এর বাইরেও পাওয়া গেছে আরো কিছু গুরুতর সংকট। যেমন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠিত হয় ২০১১ সালের ১০ জুলাই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৩ সালের ১১ জুলাই। অবৈধভাবে দেড় বছর অতিক্রম করলেও জানা গেছে, খুব শিগগির নতুন কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার ২৯ বছরের বেশি বয়স হলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে থাকতে পারবে না এমন শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে গঠনতন্ত্রে; যদিও সেটা এখনো লিখিত আকারে সংযোজিত হয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধন হয়নি। তবে বয়সসীমা ২৯ বছরই মানা হচ্ছে বলে সংগঠন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় ওই বয়স পেরিয়ে গিয়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ছিটকে গেছেন। আবার অনেকে ‘অবৈধ’ হয়েও কবজা করে রেখেছেন কমিটি। খোদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে প্রায় অর্ধেক নেতারই এই অবস্থা বলে জানা গেছে। আর এ কারণে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ বা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছেদ পড়েছে। তৃণমূলের নেতাদের রাজনীতি দেখাশোনা করার জন্য দায়িত্ব ভাগ করার কথা থাকলেও হয়নি। মাঝে কয়েকজন নেতাকে কয়েকটি জেলা সফরে পাঠানো হয়েছিল। কয়েকটি জেলা কমিটি গঠনের পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড না থাকায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়েছে পড়েছে তৃণমূল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটছে একের পর এক সংঘর্ষ। আবার দেখা গেছে, সংঘর্ষের পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হলেও পরে আবার তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও অনেক জেলা কমিটি গঠন করতে পারেনি তারা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলে, ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কারণে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কাজেই তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ ও বেঁধে দেওয়া বয়সের কারণে অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন। আর তৃণমূল বা জেলা কমিটিতে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নিজেদের মধ্যেই মারামারিতে জড়াচ্ছে ছাত্রলীগ। চলতি মাসে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সর্বশেষ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এর আগে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার তিতুমীর কলেজ ও কুড়িগ্রাম জেলা কমিটি নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের সোজাসাপ্টা জবাব- ‘ছাত্রলীগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত না থাকলেও ছাত্রলীগকে জড়ানো হচ্ছে। এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী একটি শক্তি ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপানোর কাজ করছে।’
গত বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগকর্মী ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সুমন প্রাণ হারান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান গ্রুপ এবং সহসভাপতি অঞ্জন রায় ও কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত নেতা উত্তম কুমার দাসের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে।
কিন্তু এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত ছিল না। বহিরাগত ও ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতারা হামলা করেছেন। কিন্তু ছাত্রলীগ জড়িত ছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচার করছে।’
কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৮ মে শাবিপ্রবিতে নতুন কমিটি গঠনের দিনই আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এর কয়েক দিন পর ১১ মে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। এরপর থেকে নতুন কমিটি ক্যাম্পাসে ঢোকার সাহস করতে পারেনি।
কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা বলেন, মাঠপর্যায়ের আন্দোলন করেছে এমন নেতাদের বাদ দিয়ে ‘অর্থের বিনিময়ে’ ও ‘নিজ লোক’ বিবেচনায় নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। এ কারণে দেড় বছর আগে কমিটি গঠন করা হলেও ক্যাম্পাসে নেতারা ঢুকতে পারেননি। যারা ছাত্রলীগের কোনো পদ পায়নি, তারাই আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর এই আধিপত্য নিয়েই বৃহস্পতিবার দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের ১০ জুন চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস পার হলেও এই কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান পাভেল ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি।
৮ সেপ্টেম্বর তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হলে তাণ্ডব শুরু হয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে। কমিটি গঠনের পর ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি নতুন কমিটি।
কুড়িগ্রামে সম্মেলনের মাধ্যমেও নতুন জেলা কমিটি দিতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কারণ সম্মেলনের দিন সেখানে ভোট হওয়ার পরও কমিটির নাম ঘোষণা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সেদিন ঢাকায় ফিরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর নতুন সভাপতি সাগর ও সাধারণ সম্পাদক সাকিবকে কুপিয়ে আহত করে পদবঞ্চিতরা।
গত ১৮ নভেম্বর দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়। ১৩ নভেম্বর মোজাহিদুল হাসানকে সভাপতি ও কৌশিক দেবকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওই কমিটি নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে ১৫ নভেম্বর ওই কমিটি বাতিল করে আশরাফুল রহমানকে সভাপতি ও আশফিকার সামসকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রলীগ। এর পর থেকেই বিলুপ্ত কমিটি ও বহাল কমিটির সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ১৮ নভেম্বর দুই কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন মাসের জন্য ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে। এর আগে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) ও চুজ ফেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন থেকে ভিএক্স গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হওয়া তৎকালীন সভাপতি মামুনুল হককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ভিএক্স গ্রুপ। শিবিরের কর্মী থেকে ছাত্রলীগের নেতা অভিযোগে ভিএক্স তাঁকে বর্জন করে। ৯ নভেম্বর শাটল ট্রেন ও শিক্ষকদের বহনকারী বাস বন্ধ করে দেয় সিএফসি এবং ১০ নভেম্বর ক্যাম্পাসে মূল ফটকে তালা দেয় ভিএক্স গ্রুপ।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। কিন্তু এখনো সম্মেলনের কোনো আশা নেই। বর্তমান কমিটির অনেক নেতার বয়স শেষ হয়েছে। কাজেই তাঁরা নিজ নিজ আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবার যাঁদের বয়স আছে তাঁরা সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে না থেকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছেন। তবে যাঁদের বয়স আছে এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে চান, তাঁরা নিজ নিজ উদ্যোগে তৃণমূলে যোগাযোগ করছেন।
বয়সের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জয়দেব নন্দী বলেন, ‘ছাত্ররাই ছাত্ররাজনীতি করবে- জননেত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা মোতাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বয়সসীমা ২৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এটি আগে ২৭ বছর ছিল কিন্তু সারা দেশের নেতা-কর্মীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর বাড়ানো হয়েছে, তবে সেটা এখনো গঠনতন্ত্রে সংযোজিত হয়নি।’
সংগঠনের সহসভাপতি পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর নাখোশ হয়ে অনেক কথা বললেও তাঁরা নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ করেন। নেতারা বলেন, ছাত্রলীগের কোনো সিদ্ধান্তে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় না। কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকায় তৃণমূলের ছাত্র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেই জেলা কমিটির নেতাদের সাক্ষাৎ হয়ে থাকে। সংগঠনের অন্য নেতাদের সঙ্গে কারো যোগাযোগ নেই। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। আর এ বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো উদ্যোগ নেই। সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এসব কারণেই ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ হলেই ছাত্রলীগের সম্মেলন দেওয়া হবে।’ কবে সম্মেলন হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির হবে।’
গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি দাবি করেছেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ছাত্র হত্যা ছাত্রলীগের আদর্শিক রাজনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিপন্থী।
কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ বলে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অসংখ্যবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে অন্তত ৪০ নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ২০০৯ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ২০১০ সালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহসভাপতি রেজানুল ইসলাম, ২১ জানুয়ারি পাবনা টেক্সটাইল কলেজের ছাত্রলীগকর্মী মোস্তফা কামাল শান্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১ ফেব্রুয়ারি আবু বকর, ১১ ফ্রেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিউদ্দিন, ২৮ মার্চ হারুন অর রশিদ কায়সার, ১৫ এপ্রিল আসাদুজ্জামান, ১২ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগকর্মী পলাশ, ১৬ জুলাই ছাত্রলীগকর্মী সোহেল, ১৫ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতারের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে নাসিরুল্লাহ নাসিম, ২০১১ সালের ১৬ জুলাই পদ্মা সেতুর টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগকর্মী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ আল সোহেল, ২০১৪ সালে ৪ এপ্রিল ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ প্রাণ হারান। এ ছাড়া ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও পলিটেকনিকের রাইসুল ইসলাম রাসেল, ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আবিদুর রহমান, ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগকর্মী জুবায়ের আহমেদ, ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল মালেক জনিসহ অনেকে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে প্রাণ হারান বলে ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে।
-কালের কণ্ঠ

