বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: রাজধানীর অন্যান্য অপরাধমূলক ঘটনা কমে আসলেও ছিনতাই কমছে না। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে ছিনতইকারীরা বেপরোয়া। ডিএমপির দুর্বল নজরদারিকে এর জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা মহানহগর পুলিশ ও হাসপাতালের তথ্য থেকে জানা যায়, রাজধানীতে গড়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৩ টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২০টি, মার্চে ২৬টি, এপ্রিলে ১৯টি, মেতে ২৩টি, জুনে ২৫টি, জুলাইতে ২১টি, আগস্টে ১৭টি, সেপ্টেম্বরে ২২টি, অক্টোবরে ২৭টি, নভেম্বরে ২০টি ও চলতি মাসের সোমবার পর্যন্ত ২১টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। প্রায় সব ঘটনাতেই ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ না হয় চাপাতি কোপে মারাত্মক আহত হন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করলে হয় মারা যান, না হয় বেঁচে থাকলে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিএমপি দুর্বল নজরদারির কারণে ছিনতাই বাড়ছে। বিশেষ গভীর রাত থেকে ভোরের দিকে পুলিশের টহল তেমন একটা থাকে না। বর্তমানে ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনে কমপক্ষে তিন শতাধিক ছিনতাই স্পট রয়েছে। সেই সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে ১৭টি। প্রতিটি গ্রুপের হাতে পিস্তল, রিভলবারসহ নানা ধরনের ধারাল অস্ত্র রয়েছে। বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস না হয় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাইকারীররা।
এদিকে ছিনতাইকারীরা দিনে দিনে তাদের কৌশল বদল করে নতুন নতুন কৌশল নিয়েছে। তাদের একটি অংশ এখন ছিনতাইকালে পুলিশ, র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে, পুলিশ পরিচয়ে দেহ তল্লাশির নামে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এরকম ঘটনায় হাতেনাতে বেশ কিছু ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
তাদের তথ্য মতে, বর্তমানে মিরপুরে সক্রিয় খলিফা, আরমান, আকতার, মনির, ও বাবু গ্রুপ সক্রিয়। তেজগাঁওয়ে, শহিদুল ও রজব গ্রুপ, বাড্ডায় সোহেল, ফরমান, গুলশানের নাসির, ল্যাংড়া বাচ্চু, কাইল্যা সেন্টু, আকতার, এতিম মনির, ইমু, জাকির, আরিফ, সুলতান, জাহাঙ্গীর ও সাগর গ্রুপ, মতিঝিল ও ওয়ারী এলাকার নেতৃত্বে রয়েছে মকবুল গ্রুপ। প্রতিটি ছিনতাইকারী গ্রুপে গ্রুপে কমপক্ষে ৭ জন করে উঠতি দূর্বৃত্ত রয়েছে। গত কয়েকমাসে রামপুরাম মালিবাগ, খিলগাঁও, রমনা, গুলশান উত্তরা ও মিরপুরসহ পুরান ঢাকার লালবাগসহ আরো কয়েকটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া রাজারবাগ পুলিশ লাইন ১ নম্বর গেট থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের আগে পীরজঙ্গি মাজার, শান্তিনগর মোড় থেকে ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেট, কাকরাইল মোড়, পান্থপথ মোড় থেকে ফার্মগেট, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর থেকে টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলশান শুটিং ক্লাব, মহাখালী কাঁচাবাজার, যাত্রাবাড়ি মোড় থেকে কাজলার পাড়, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে জনপথ মোড় হয়ে ধলপুর সিটি, মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজ, মৌচাক থেকে মগবাজার মোড়, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া, বাবুবাজার ও হাতিরঝিল প্রকল্পেও প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ডিবির অস্ত্র ও বোমা বিস্ফোরক টিমের প্রধান ছানোয়ার হোসেন বলেন, অপরাধিরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। অবৈধ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পাচার হয়ে আসা অস্ত্র ছিনতাইকারী, ভাড়াটে খুনিসহ অন্যান্য অপরাধিদের কাছে চলে যাচ্ছে। আর অবৈধ অস্ত্রের কারণে বাড়ছে অপরাধ। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় বরাবরই আগ্নেয়াস্ত্র বেশি ব্যবহার হয়।
চলতি জানুয়ারিতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ১১টি পিস্তলসহ ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে উদ্ধার ৮টি পিস্তলসহ ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র। মার্চে ১৪টি পিস্তলসহ ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। এপ্রিলে উদ্ধার করা হয় ১১টি পিস্তলসহ ৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র। মে মাসে উদ্ধার হয় ১০টি পিস্তলসহ ৩৭টি অস্ত্র। তবে জুন মাসের অস্ত্র উদ্ধার ১১টি। ১৮ মে হাতিরঝিল এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ গুলিসহ এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্য মতে, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যেসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে তার আগাম তথ্য ছিনতাইকারীদের সোর্সের মাধ্যমে আগে প্রকাশ পায়। আবার ছিনতাইয়ের ঘটনায় বাস্তব চিত্র আরো ভয়াবহ। অনেক ব্যক্তি পুলিশের হয়রানির ভয়ে থানায় অভিযোগ দিতেও চান না।
ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পরও থানায় অভিযোগ দিতে গেলে আহত ব্যক্তির কাছেই প্রমাণ চায় পুলিশ। বাংলামেইল২৪ডটকম

