বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলনে একাত্তরের মার্চ মাস অন্তনির্হিতি শক্তির উৎস। এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববর রহমান।
এর আগে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সাতকোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি , আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো- ইনশাল্লাহ। এবাররে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”
১৯৭১ এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান- আজকের সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে দেয়া এই ঐতহিাসিক ভাষণের সময় মুর্হুমুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারতি হতে থাকে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। । ঢাকাসহ গোটা দেশে পত পত করে উড়ছিল সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য যে আগুন জ্বলে উঠছেলি- সে আগুন যেন ছড়িয়ে পরে বাংলার সর্বত্র। এর পরে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয়দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথানের সিঁড়ি বেয়ে একাত্তরের মার্চ বাঙ্গালীর জীবনে নিয়ে আসে নতুন বারতা। এ বছরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এর আগে ২৫ মার্চ রাত একটার অল্প পরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সন্যরা গ্রেফতার করে তার বাড়ি থেকে।
২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙ্গালীর কন্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে অপারশেন সার্চলাইট নামে বাঙ্গালি নিধনে নামে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে সন্যরা নির্বিচিারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্নি শিক্ষা প্রতষ্ঠিানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে।
এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘরে ঘরে র্দূগ গড়ে তোলা হয়। আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। র্দীঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বের বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা।
এই স্বাধীনতার মাস মার্চ এবার এসেছে ভিন্ন বার্তা নিয়ে। যুদ্ধাপরাধীদেরে বিচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অনকগুলো মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। রায় র্কাযকরও হচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ যখন তাদের সর্বোচ্চ অর্জন স্বাধীনতার শক্রদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পাওয়া শুরু করেছে, তা বন্ধ করার জন্যে আন্দোলনের নামে সারাদেশে নজিরবীহিন অরাজকতা চারাচ্ছে। অসংখ্য মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে। বাতাসে এখন পোড়া লাসের গন্ধ, দেশজুড়ে বোমাবাজির মহোৎসব, স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি , হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে দগ্ধ মানুষের আর্তনাদ- প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথায়ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মধ্যে শুরু হচ্ছে স্বাধীনতার মাস মার্চের । এবারের মার্চ মাসে স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ সকল অরাজকতা মোকাবেলা করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে নতুন করে অংঙ্গীকার করবে-এই প্রত্যাসা সবার।

