বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
চট্টগ্রাম: হরতাল-অবরোধের মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমসে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৩৮০ কোটি ৬ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
অথচ দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী এই প্রতিষ্ঠানে ২০১৪ সালের প্রথম তিনমাস যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল চলতি বছর একই সময়ে তার চেয়ে ৪১৪কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিনমাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে ভ্যাট, শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্ক এই তিন খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫ হাজার ৭২২কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে ২০১৪ সালের প্রথম তিনমাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয় ৫ হাজার ৩০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তখনও লক্ষ্যমাত্রা আদায় হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারি থেকে অবরোধ-হরতাল শুরু হলেও তার প্রভাব আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে পড়েনি। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কর্মকৌশল হাতে নেওয়া হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় আরো বাড়বে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন,‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড চালুর ফলে ব্যবসায়ীরা অনলাইনে কাজ করতে পারছেন। ফলে অবরোধ-হরতাল হলেও রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়েনি।’
চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আকতার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন,‘জানুয়ারি থেকে হরতাল শুরু হলেও চট্টগ্রাম কাস্টমসে এর প্রভাব পড়েনি। আমদানিপণ্য খালাস করতে নিয়মিত বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে সমস্যা হয়নি। ’
তবে নাশকতার কারণে চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য প্রান্তে পণ্য পরিবহনে সংকট দেখা দিলেও মার্চ মাস থেকে তা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক ও বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন,‘জানুয়ারিতে অবরোধ-হরতাল শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭০ শতাংশ ব্যবসা-বাণিজ্যই প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।’
“কিন্তু মার্চ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। নাশকতার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রায় স্বাভাবিক হয়েছে” বললেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
তবে পরিবহন ভাড়া এখনো বেশি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নগরীর খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এই ব্যবসায়ী।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারি কমিশনার মো.আব্দুল বাতেন বাংলানিউজকে বলেন,‘জানুয়ারি থেকে হরতাল-অবরোধ চললেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে। অন্যদিকে গত বছর(২০১৪) একই সময়ে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তারপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমশিম খেতে হয়েছে।’
তিনি জানান, চলতি বছর জানুয়ারিতে এক হাজার ৯৮৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ হাজার ২৭০কোটি ৮১ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৮৭১কোটি ৯১ লাখ টাকার বিপরীতে ২ হাজার ১৪৬কোটি ৬৩লাখ এবং মার্চে ১ হাজার ৮৬৮কোটি ৫৯লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ হাজার ২৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
২০১৪ সালে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮৪২ কোটি ৭৫ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৭৩৫কোটি ৩৮ লাখ এবং মার্চে ১ হাজার ৭২৭কোটি ৬৪লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে এই তিনমাসে লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ার কারণে রাজস্ব আদায় বেড়েছে উল্লেখ করে সহকারি কমিশনার জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮০২ কোটি পণ্য আমদানি হয়। ৫৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা মূল্যের এসব পণ্য থেকে ৭ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে।
অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৮ কেজি পণ্য আমদানি হয়। ৩০ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা মূল্যের এসব পণ্যে ৪ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

