বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
মার্কিন সিনেটে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসংক্রান্ত উপকমিটির চেয়ারম্যান ম্যাট সালমন বাংলাদেশকে একটি চরম বিশৃংখল রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিভক্ত। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচন ঘিরে সহিংস প্রতিবাদ হয়েছে। ফলে রাজনীতির উভয় পক্ষের অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যদিও যথেষ্ঠ উদ্বেগ দেখা দেয়নি তবে দেশটিতে উগ্রপন্থী জঙ্গিদের সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশের ভঙ্গুর দশা : রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রবাদ বিষয়ে সিনেটের উপকমিটিতে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে এসব কথা বলেছেন। উপকমিটির বৈঠকটি ওয়াশিংটন ডিসিতে রেবার্ন হাউস ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্র“প তাদের নিয়োগ তৎপরতা বৃদ্ধি করছে। এ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। আমাদের তাই ঘনবসতিপূর্ণ দেশটির গোটা পরিস্থিতি বোঝা প্রয়োজন।
শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন ডেভিস ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসির অধীন এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিজা কার্টিস, ইলিনোয়েস স্টেট ইউনিভার্সিটির চেয়ার অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, গভর্নমেন্ট রিলেশনন্স হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের পরিচালক জয় কানসারা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে আলী রিয়াজ বলেন, যদিও নির্বাচনকে ঘিরে ২০১৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তবুও নির্বাচনের পর আন্তরিক সংশ্লিষ্টতার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৪ সাল তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও ক্ষমতাসীন দল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সময়টায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার সুযোগ বিনষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ২০১৫ সালের শুরুর দিকের রাজনৈতিক হানাহানির দায় এড়াতে পারে না। দেশ যখন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে যাচ্ছে তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পন্থা অব্যাহত রাখতে পারে না। একটি অস্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আচরণবিধি, ভীতিমুক্ত জীবনযাপনে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক কোনো ব্যক্তি কিংবা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে খানিকটা অবসরে থাকা বিরোধী দল এবং সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সাফল্য অনেকটাই একদলীয় শাসনের নামান্তর। রাজনৈতিক নেতারা কোন পথে এগোবেন সেটা তাদের পছন্দের ব্যাপার। কিন্তু এই পরিস্থিতির সুযোগ না নিলে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি ও অভাবনীয় এক সহিংসতায় ঠেলে দেয়া হতে পারে।
আলী রিয়াজ বলেন, অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে আঞ্চলিক ও অঞ্চলের বাইরের জঙ্গি গ্রুপ। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।

