বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: রোহিঙ্গা বিষয়ে নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানি কিশোরী মালালা ইউসুফজাই তার সরব মনোভাব প্রকাশ করলেও চুপ রয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশের ড. ইউনূস। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি তিনি। মালালা ফান্ডের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতির বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ডন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ জানায়, মালালা সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগণকে রক্ষায় উদ্যোগ নিতে মিয়ানমার ও বিশ্বনেতাদের প্রতি আহবান জানান।
শুধু মালালা কেন মিয়ানমারের নোবেল লরিয়েট ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে সংগ্রামী নেত্রী অং সান সুকি সহসা রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ব্যাপারে সহজে কথা না বললেও অন্তত কয়েকবার রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সেদিক থেকে শান্তি নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ বা বক্তব্য রাখেন নি। শান্তির পক্ষে ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে চাইলে মিয়ামারে রোহিঙ্গাদের উপর যে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার হয়ে আসছে, দেশ ছেড়ে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে মানবপাচারকারীদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা, তাকে বিশ্বের অনেক নেতাই দু:খজনক বলেছেন। প্রতিবাদ করেছেন। এদিক থেকে ব্যতিক্রম মনে হয়েছে ড. ইউনূসকে। কারণ শান্তি ও সামাজিক ব্যবসার মূলমন্ত্রই হচেছ মানুষের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনা ও তারা যাতে নির্যাতিত হতে না পারে তার পক্ষে দাঁড়ানো। ইউনূস তা করছেন অথচ রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে কোনো কথা বলছেন না যা অনেকের কাছে বেমানান মনে হয়েছে।
মালালা বলেন, আমি রোহিঙ্গাদের সাথে আছি। সব জায়গার মানুষকে আমি তাদের পাশে থাকতে উৎসাহিত করি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অত্যাচার নির্যাতন চলছে তা বন্ধে বিশ্ব নেতাদের প্রতিও জোর অনুরোধ জানিয়েছেন মালালা।
বিবৃতিতে মালালা বলেন, যে দেশে জন্মগ্রহণ, সেই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রোহিঙ্গাদের রয়েছে। তারা সমান অধিকার ও সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে।
পাকিস্তানের নোবেল জয়ী এই কিশোরী বলেন, আমরা যেমন প্রত্যাশা করি, ঠিক তেমনি রোহিঙ্গারাও প্রত্যাশা করে তাদের সঙ্গে সম্মান ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে।
নারী শিক্ষা নিয়ে কাজ করে ২০১৪ সালে ভারতের শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা কৈলাশ সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পান মালালা। বর্তমানে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে বাস করছেন এই সাহসী মুসলিম কিশোরী।

