শুনানিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানালেন লতিফ সিদ্দিকী

প্রকাশিত: August 23, 2015 | সময়: 10:32 am

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: নিজের সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার বিতর্কের শুনানিতে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এ শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আমি এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করবো। এটি নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই, শুনানির কিছু নেই।

রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সভাকক্ষে এ শুনানি শুরু হয়। পনের মিনিটের এ শুনানিতে আইনজীবীদের নিয়ে অংশ নেন পবিত্র হজ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব হারানো লতিফ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন তার আইনজীবীরা।

শুনানির জন্য আইনজীবীদের নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বেলা পৌনে এগারটার দিকে ইসিতে হাজির হন। এর পর পরই হাজির হন সৈয়দ আশরাফের আইনজীবীরা।

এদিকে সকালেই শুনানি আয়োজনে ইসির এখতিয়ার না থাকার বিষয়ে লতিফ সিদ্দিকীর দায়ের করা রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। এতে তার সংসদ সদস্যপদ নিয়ে শুনানিতে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার রায়ই চূড়ান্ত হয়। এ রায়ে লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্য নির্ধারণে সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকেই দায়িত্ব দেওয়ার পর তার আইনজীবীরা জানান, তারা শুনানিতে যাচ্ছেন।

গত ১৩ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে চিঠি দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। এতে লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ থাকা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। সে মোতাবেক বিরোধটি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া হাতে নেয় ইসি।

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে দু’পক্ষকেই শুনানির সুযোগ দেওয়া উচিত। তাই তাদের শুনানি হবে।

আইন অনুযায়ী, বিরোধ উত্থাপনকারী ও যার বিরুদ্ধে বিরোধ উত্থাপন হয়েছে, উভয়পক্ষই শুনানিতে সাক্ষ্য উপস্থাপন ও জেরা করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া তারা ব্যক্তিগতভাবে অথবা অ্যাডভোকেট প্রতিনিধির মাধ্যমে ইসির সামনে উপস্থিত থাকার অধিকার পাবেন।

নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী পবিত্র হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার পর প্রথমেই মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বাদ দেয় সরকার। এরপর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আরও পরে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করে দলটি। আর সবশেষ তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দু’পক্ষকে নিয়ে শুনানির আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।