বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: ভারতের গুজরাট রাজ্যে প্যাটেল সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট সহিংসতায় বুধবার নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়ে গিয়ে দাঁড়িছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ বলবৎ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রথমে নিহত হয় ছয় জন। এর জের ধরে চলা সহিংসতায় পরে মারা যান আরো তিন জন। এদের মধ্যে আহমদাবাদে চার জন, বনস্কান্তা জেলার গান্ধ গ্রামে তিন জন এবং মেহাসানা শহরে প্রাণ হারিয়েছে আরো একজন।
এই সহিংসতার পর গুজরাটের সুরাট, রাজকোট ও মেহসানা শহরের বিভিন্ন স্থানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি কারফিউ বলবৎ করা হয়েছে আহমেদাবাদ, সুরাট, রাজকোট, মেহসানা, পাটান, পালানপুর, উনজাহা, ভিসনগর ও জামনগরে। আহমেদাবাদের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর রাজকুমার বেনিওয়াল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআই’কে জানিয়েছেন, ‘আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আহমদাবাদে পাঁচ কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’
এই পরিস্থিতিতে নিজ রাজ্যের বিক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘সহিংসতা কখনোই কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়।’
সংঘর্ষের শুরু গত মঙ্গলবার। সেদিন রাজ্যের রাজধানী আহমেদাবাদে অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভে জড়ো হয় প্যাটেল সম্প্রদায়ের কয়েক লাখ মানুষ। পরে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন সরকারি স্থাপণায় ভাংচুর চালানো হয়। বিক্ষুব্ধরা ৪০টি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয়। অন্ততপক্ষে ৭০ টি বাস জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার সেখানে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের ডাকে গুজরাটে বুধবার সকাল থেকে চলছে অবরোধ । কার্যত অচল হয়ে পড়ে গুজরাটের মূল শহর আহমেদাবাদ । বৃহস্পতিবারও বন্ধ রয়েছে ওই রাজ্যের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২২ বছর বয়সী নেতা হারদিক প্যাটেল।

