স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তড়িঘড়ি করে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছুটে যাচ্ছে লঞ্চগুলো। খালি লঞ্চ নিয়েই গন্তব্যে পৌঁছে যাত্রীবোঝাই হয়ে ফের ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত এভাবেই ট্রিপ দেবে ঢাকা-বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সদরঘাট টার্মিনালে দেখা যায়, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে জীবিকার টানে দক্ষিণাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষকে রাজধানী ঢাকায় আসছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো ঘাটে এসে থামার সঙ্গে সঙ্গেই হাজার হাজার মানুষ হুড়হুড় করে বের হচ্ছে। ঘাটের ভেতর ও বাইরে কোথাও তিলধারণের জায়গা নেই। অর্ধশতাধিক লঞ্চ ভিড়ছে টার্মিনালে। আরো বেশকিছু লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আবার ঘাটে ভিড়া লঞ্চগুলো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তড়িঘড়ি করেই বের হয়ে যাচ্ছে ঘাট থেকে। আবার কোনো লঞ্চ পাড়ে না ভিড়িয়ে মাঝ নদীতেই নোঙর করে আছে।
দেখা গেছে, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশাল, হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ, শরিয়তপুর, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনাসহ বিভিন্ন রুটের লঞ্চগুলো যাত্রীবোঝাই করে ঢাকার সদরঘাটে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সোয়া ৫টায় সদরঘাটে এসে পৌঁছে সন্দরবন-৭ এবং ৮, কীত্তনখোলা-২ এবং ১, ফারহান-৮। এর কিছুক্ষণ পর আসে কালাম খান, টিপু-৭, পারাপাত-১১, পারাপাত-৯, সুবভী-৯ লঞ্চ।
লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ দেখা গেছে। লঞ্চের নিচতলা, দোতলা এবং ছাদে মানুষে ঠাসা ছিল। লঞ্চ ঘাটে থামার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা হুড়হুড় বিশৃঙ্খ্যলভাবে ঝুঁকি নিয়ে করে বের হচ্ছে।
যাত্রীদের অনেকে অভিযোগ করেন, ঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গে আনসাররা যাত্রীদের তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দিচ্ছে। ঘাটে আসার সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে লঞ্চ খালি করে তারা আবার বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা দিচ্ছে।
মনিরুল ইসলাম নামের পারাপাত-১১ কেবিনের এক যাত্রী বলেন, ‘ঘাটে লঞ্চ আসার সঙ্গে সঙ্গে বললো আপনাদের এখনই নামতে হবে আমরা এখনই বরিশাল যাবো। আমাদেরকে কোনো সময়ই দেয়া হল না। নামিয়ে দেয়া হলো।’
একই কথা বললেন ওই লঞ্চের কেবিনের যাত্রী আলমগীর হোসেনও।
সন্দুরবন-৭ এর কেবিনের যাত্রী কবির উদ্দিন অভিযোগ করেন, লঞ্চঘাটে আসার পর অনেকটা জোর করেই যাত্রীদেরকে তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো সময় দেয়া হয়নি।
ইসরাত জাহান নামের কীত্তনখোলা লঞ্চের যাত্রী সদরঘাট টামিনালে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, ঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চওয়ালারা বলছে- নামেন, নামেন। দেরি করলে আবার বরিশালে নিয়ে যাবে।
যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পারাপাত-১০ লঞ্চের কেরানী কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা ভোর ৫টার দিকে ঢাকায় আসি। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তেল ভরে সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছি। আমাদের লঞ্চটি রাত সাড়ে ৮টায় বরিশাল থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবে।’
এদিকে সদরঘাট টার্মিনালের সামনে থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি ভাড়া নেয়া হয় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি। বরিশাল থেকে আসা সাহাবুদ্দিন সাবু নামের মিরপুরের এক যাত্রী অভিযোগ করেন সদরঘাট থেকে মিরপুর -১০ নম্বর ভাড়া হচ্ছে ২৫ টাকা সেখানে বিহঙ্গ পরিবহন নিচ্ছে ১০০ টাকা। পুলিশের সামনে ১০০ টাকা করে ডাকছে, কিন্তু তারা কিছু বলছে না।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমানে থেকে মিরপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বাসগুলোতে ৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে। সুপ্রভাত পরিবহনে টঙ্গীতে ৫০ টাকার স্থলে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৭৫ টাকা। গাবতলী রুটের গাড়িগুলো নিচ্ছে ৫০ টাকা করে।

