স্টাফ রিপোর্টার ॥ হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বাতিল হয়ে গেলো নির্বাচন কমিশনের দেয়া নিবন্ধন। এর ফলে এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচনে জামায়তে ইসলামী দল হিসেবে অংশ নিতে পারবে না।
যদি সুপ্রীমকোর্টও হাইকোর্টের এ রায় বহাল রাখে তাহলে আর কোন দিনই চিহ্নিত এ দলটি এদেশে কোন নির্বাচনে দল হিসেবে অংশ নিতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল করে রায় ঘোষণার পর এমনটাই জানান দেশের প্রখ্যাত আইনজ্ঞরা।
এদিকে, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলেও রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় কার্যকর হলে রাজনীতিতে ধর্মে অপব্যবহার বন্ধ হবে বলে মনে করছেন অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। এ রায় কার্যকর হলে তারা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নির্বাচন কমিশনকে রায় অনুসারে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এ রায় জনগণের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। সংবিধানের ১১২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ রায় মানা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। এ রায় কার্যকর হলে ধর্মের নামে রাজনীতির সুযোগ নিয়ে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হবে।
এমকে রহমান বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত যে আপিল করেছে, আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে তাহলে আর কোন দিনই দাড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে এবং জামায়াতে ইসলামীর দলী ব্যনারে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেজ্ঞ শাহদিন মালিক বলেন, ‘এই রায়ের ফলে রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে তাদের কর্মকা-ে নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা নিবন্ধনের শর্ত ভঙ্গ করবে তাদের নিবন্ধন বাতিল হবে।’
এদিকে রায় ঘোষণার পর এ রিট মামলায় নির্বাচন কমিশনের পে শুনানিতে অংশ গ্রহণকারী আইনজীবী এ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, এ রায়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন থেকেই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলো। ফলে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে দলীয় প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, কারোই আপিল করার প্রয়োজন নেই। অটোমেটিক আপিল হয়ে গেছে।
আদালত রায়ে বলেছেন, যেহেতু এই বিষয়টির সাথে আইনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত রয়েছে, সেহেতু এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেয়া হলো। তাই এখানে লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরের অনুমতি গ্রহণ) করার প্রয়োজন নেই।
হাইকোর্টের এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছেন।
তিনি বলেন, আদালতের তিন জন বিচারপতির মধ্যে দুইজন নিবন্ধন বাতিলের পে রায় দিয়েছেন এবং অন্যজন ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধনটি বাতিল ও অবৈধ ঘোষনা করেছে আদালত। এ রায়ের ফলে এদেশে আর কোন নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তুরিন আফরোজ।
উল্লেখ্য, হাইকোর্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেন। একজন বিচারপতি এই রায়ের বিপে অবস্থান নিলেও বাকি দুজন পে ছিলেন। এখন জামায়াতে ইসলামী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবে এবং আপীল বিভাগ যদি হাইকোর্টের এই রায় বহাল রাখেন, েেসেত্র নির্বাচন কমিশনকে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ৩৯টি দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পরে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৩৮।
তবে জামায়াতে ইসলামির নিবন্ধন বাতিল হলে এই সংখ্যা দাড়াবে ৩৭।

