বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
বাংলাদেশে মনুষ্যবিহীন যান ওড়ানোর (ড্রোন) নীতিমালা তৈরি করছে বেসামরিক বিমাল চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শিশুদের দূরচালিত খেলনা উড়োজাহাজও এ নীতিমালার আওতায় থাকবে। সোমবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মো. আলী আশরাফ, আফতাব উদ্দীন সরকার ও রওশন আরা মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে খসড়া নীতিমালা তুলে ধরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানানো হয়। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী ব্যতীত অন্য যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে কোনো স্থানে ড্রোন ব্যবহার করতে হলে বেবিচকের অনুমতি নিতে হবে। যেসব স্থানে বিমানবন্দর নেই সেখানে বেবিচক ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এভিয়েশন একটি খসড়া নীতিমালা করেছে। যারা ড্রোন ওড়ায় বা এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের কথা বলে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নীতিমালাও দেখতে বলা হয়েছে। তবে সেই নীতিমালা এমনভাবে করতে হবে, যা সত্যিকার অর্থে কার্যকর হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আনঅথরাইজড ড্রোন ব্যবহার দেখেছি। কিছুদিন আগে খেলার মাঠে ব্যবহার হয়েছে। কিছু কিছু অ্যাম্বাসি তাদের নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ব্যবহার করে থাকে। তাই এ ব্যাপারে একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাদের খেলনা ড্রোন এ নীতিমালার মধ্যে রাখার জন্য বলা হয়েছে। কারণ ওই ধরনের খেলনা দিয়ে বিভিন্ন অশুভ কাজ করা যায়।’
গত ডিসেম্বরে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিনা অনুমতিতে আকাশে যে কোনো ধরনের মনুষ্যবিহীন যান ওড়ানো নিষিদ্ধ করে। তার আগে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে খেলতে এসে মিরপুর স্টেডিয়ামে ড্রোন ওড়ানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। পরে নিষেধাজ্ঞার কথা জেনে ক্ষমাও চায় তারা। আর শিশুদের খেলনা উড়োজাহাজ আমদানি করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিরও নিয়ম রয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালায় নতুন বিধান থাকছে।

