বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা : বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের চরম ব্যর্থতার কারণে গত দুই বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সে ব্যর্থতার মিছিলে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল ছাত্রদল। বিগত ৯২ দিনের টানা অবরোধ কর্মসূচিতে ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন নেতা ছিলেন সক্রিয়। কিন্তু আন্দোলন থেকে পিছপা হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদলকর্মীরা।
মূলত ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬ ও ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্রদলকর্মীরা পুরো আন্দোলনজুড়ে সক্রিয় ছিল। কখনো কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আবার কখনো নিজেদের অনুসারীদের নিয়েই ঢাবি ও এর আশ-পাশের এলাকায় মিছিল করে তারা। মূলত তাদের অংশগ্রহণের কারণেই ছাত্রদলের আন্দোলন কিছুটা গতি পায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোনো পদ-পদবি না থাকায় রাজপথে নেমে গ্রেপ্তার হলেও দল কিংবা সংগঠন থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না। তারপরও আন্দোলন সফল করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথ কাঁপিয়েছে তারা। তবে এভাবে আর কতোদিন, তাই নিজেদের আন্দোলনের স্বীকৃতি চায় ঢাবির সক্রিয় কর্মীরা।
‘টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি চাই না; চাই শুধু স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করলেও আমাদের কোনো পদ-পদবি নেই। রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হলেও পদ না থাকায় দল ও সংগঠন থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলাম, এখন সেই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন চাই।’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকর্মীদের বেশকয়েকজন সম্প্রতি এমন আকূতির কথাও জানিয়েছেন।
এদিকে মহিদুল হাসান হিরুকে সভাপতি এবং মাসুদ খান পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষিত হয়। অনেক আগেই কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও তা এখনো বহাল। আর ২০০৪-০৫ সালে ঢাবির হলগুলোতে ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি হয়। ওই সময়ে হলের নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা সময়ের পরিক্রমায় এখন ঢাবি কমিটিতে নেতৃত্বপ্রত্যাশী।
তবে তাদের অভিযোগ, ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণকারী একটি সিন্ডিকেট নিজেদের অনুগতদের দিয়ে ঢাবিতে আংশিক কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। আংশিক কমিটি হলে অধিকাংশ নেতাকর্মী অবমূল্যায়িত হবে। এতে করে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে এদের নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে। ঢাবি ছাত্রদলের হারানো গৌরব ফেরাতে এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত আহ্বায়ক কমিটি গঠনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের আকূতি রাজপথের সক্রিয় ও ত্যাগী কর্মীদের।
জানতে চাইলে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিগত দুটি আন্দোলনসহ রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী এবং সংগঠনের প্রতি অনুগত, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মেধাবীদের সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন সেশনজটের সৃষ্টি হয়, তেমনি ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও জটের সৃষ্টি হয়েছে। সে জন্য কমিটি গঠনে সমস্যা হচ্ছে।’
তবে নেতাকর্মীদের আশার বাণীও শুনিয়েছেন খালেদা জিয়া। বিগত দু’টি আন্দোলনেই ছাত্রদল রাজপথে ছিল জানিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমি জানি, বিএনপির বিগত দু’টি আন্দোলনেই ছাত্রদল রাজপথে সক্রিয় ছিল। যারা সক্রিয় ছিল, তাদেরকে দিয়েই ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয়দের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাউকে আমি ফেলে দেবো না। বয়সের কারণে যারা ছাত্রদল করার সুযোগ পাবে না, তাদেরকে অন্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে নেয়া হবে। সুতরাং ভয়ের কোনো কারণ নেই।’
ঢাবি ছাত্রদলে পদপ্রত্যাশীরা হলো
২০০২-০৩ সেশন : আল মেহেদী তালুকদার (সূর্যসেন হল), তরিকুল ইসলাম (সূর্যসেন হল), মো. মারুফ-উল ইসলাম রনিক (সূর্যসেন হল), সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর (জিয়া হল), ফয়সাল আহমেদ (জসীম উদদীন হল), আকবর আহমদ (মুজিব হল), আবু জিহাদ (এসএম হল), রজিবুল ইসলাম (জিয়া হল), আজিম উদ্দিন মেরাজ (সূর্যসেন হল) ও মাহবুবুল ইসলাম মিল্টন (জহুরুল হক হল)। এদের মধ্যে সাগর, মেহেদী, তরিকুল ও রনিক সমগ্র আন্দোলনজুড়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
২০০৩-০৪ সেশন : রোকনুজ্জামান তালুকদার (জিয়া হল), মামুন খান (এস এম হল), হাফিজুর রহমান (জিয়া হল), ইমরান হোসেন (সূর্যসেন হল), আবুল বাশার সিদ্দিকী (জসীম উদদীন হল), কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ (মহসীন হল), মাইনুল ইসলাম (জসীম উদদীন হল), শাহজাহান আল রনি (এফ রহমান হল), ফজলুর রহমান খোকন (জহুরুল হক হল), তানভীর রেজা রুবেল (এস এম হল), পার্থ দেব মণ্ডল (জগন্নাথ হল), আশরাফুল আলম ফকির লিংকন (একুশে হল), মাজেদুল ইসলাম রুমন (এফ রহমান), বিশ্বজিৎ ভদ্র (জগন্নাথ হল), মামুনুর রশিদ মামুন (শহীদুল্লাহ হল), ফরিদ হোসেন খান (মুজিব হল), শামীম ইকবাল রিংকু (এসএম হল), দেলজার হোসেন (জিয়া হল), ফরিদ হোসেন খান (মুজিব হল), নজরুল ইসলাম নাহিদ (মুজিব হল), আব্দুল মাজেদ (মহসীন হল), সেলিম মিয়া (মহসীন হল), আল ইমরান রিপন (মহসীন হল) ও আরিফুর রহমান (জহুরুল হক হল)।
তবে আন্দোলনজুড়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন রোকনুজ্জামান, মামুন খান, হাফিজুর, ইমরান হোসেন, বাশার সিদ্দিকী, শ্রাবণ, মাইনুল, রনি, ফজলুর রহমান, তানভীর রেজা,পার্থ দেব ও লিংকন।
২০০৪-০৫ সেশন : আমিনুর রহমান ( জিয়া হল), শেখ আবু তাহের ( জিয়া হল), সাজিদ হাসান বাবু (জিয়া হল), সাইদুর রহমান (মুজিব হল), কামরুল হাসান শিমুল (জসীম উদদীন হল), মুজাহিদ বিন আলম জাহিদ (সূর্যসেন হল), শাহ নেওয়াজ (সূর্যসেন হল), আলমগীর কবির (মহসীন হল), শহীদ মল্লিক (মহসীন হল), মহিউদ্দিন রাজু (এফ রহমান), মিজানুর রহমান বাপ্পু (জহুরুল হক হল), মুন্সী আনিসুর রহমান শামীম (এস এম হল), সুব্রত চন্দ্র দাস (জগন্নাথ হল), মোস্তাকিম বিল্লাহ (সূর্যসেন হল), জাকির আল হাসান (জহুরুল হক হল), দিদারুল ইসলাম বাবু (মুজিব হল), মাহমুদুল আলম শাহীন (মুজিব হল), আখতার ইমাম মুরাদ (জসীম উদদীন হল), আসাদুজ্জামান সজীব (সূর্যসেন হল), শিহাবুর রহমান (এফ রহমান হল) ও এসএমএস আতাহার খান শাহীন (জহুরুল হক হল)।
এদের মধ্যে আমিনুর, আবু তাহের, সাজিদ বাবু, সাইদুর, কামরুল হাসান শিমুল, মুজাহিদ বিন জাহিদ, শাহ নেওয়াজ, আলমগীর, শহীদ মল্লিক, মহিউদ্দিন রাজু, বাপ্পু, শামীম ও সুব্রত দাস সমগ্র আন্দোলনজুড়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
২০০৫-০৬ সেশন : নাজমুল ইসলাম (জসীম উদদীন হল), রিজভী আহমেদ (সূর্যসেন হল), জুয়েল মাহমুদ (এফ রহমান), এস এম সোহেল রানা সম্রাট (এফ রহমান হল), শামীম হোসেন সুমন (এফ রহমান), আরিফুল ইসলাম (এফ রহমান হল), তানযীল হাসান (এসএম হল), ঝলক মিয়া (ফজলুল হক হল), সাফি-উল আলম (মহসীন হল), কামাল হোসেন সিদ্দিকী মিলন (মহসীন হল), রিয়াদুল ইসলাম পলাশ (এফ রহমান হল), তাজবীর সিরাজী শিশির (এফ রহমান), কাওসার হোসেন (শহীদুল্লাহ হল), নাজমুল করিম (শহীদুল্লাহ হল), আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (ফজলুল হক হল) ও শেখ আল ফয়সাল (ফজলুল হক হল)।
এদের মধ্যে আন্দোলনজুড়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন নাজমুল ইসলাম, রিজভী, জুয়েল, সোহেল রানা সম্রাট, শামীম হোসেন সুমন, আরিফুল ইসলাম, তানযীল হাসান ও ঝলক মিয়া।
২০০৬-০৭ সেশন : ইকবাল হোসেন শ্যামল (মুজিব হল), রিয়াদ মো. ইকবাল হোসেন (সূর্যসেন হল), রাশেদুল ইসলাম (জহুরুল হক হল), রাকিবুল ইসলাম রাকিব (এফএইচ হল), শফিকুল ইসলাম শফিক (এফএইচ হল), আসাদুজ্জামান আসাদ (জহুরুল হক হল), নাজমুল হাসান মিথুন (জহুরুল হক হল), ত্রিবিজয় চাকমা (জগন্নাথ হল), জিএম ফরিদ হোসেন (মুজিব হল), রোকনুজ্জামান (সূর্যসেন হল), মিজানুর রহমান (মহসীন হল), সাইফুল ইসলাম (এফ রহমান), বেলাল হোসাইন (এফ রহমান), সাজেদুল হক মন্ডল সাজু (শহীদুল্লাহ হল), ওমর ফারুক রুবেল (শহীদুল্লাহ হল),
অবশ্য শ্যামল, রিয়াদ, রাশেদুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম,শফিকুল ইসলাম, আসাদ, নাজমুল ও ত্রিবিজয় চাকমাই আন্দোলনজুড়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
ছাত্রদলের এসব কর্মীরা ঢাবির কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও কাজের স্বীকৃতি চান। তাদের মতে, সবাইকে মূল্যায়ন করে স্বীকৃতি দেয়ার একমাত্র পথ আহ্বায়ক কমিটি। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সবাইকে যেমন মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, তেমনি তাদেরও নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলামেইল২৪ডটকম

