তুহিন আহামেদ ॥
গাজীপুর : মহানগরীর জরুন এলাকায় আখি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর পূর্বপাড়ায় লাশ দাফন করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত আখি আক্তার জেলার সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং কোনাবাড়ি এলাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
ঘটনাটি সোমবার সকালে ঘটলেও তরিঘরি করে দুপুরে লাশ দাফন করতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং এলাকাবাসির সন্দেহ হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের খবর দেন।
এলাকাবাসি জানায়, দুই বছর আগে জামালপুর সদর উপজেলার চষীশেখপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে রিপনের সাথে বিয়ে হয় আখির। বিয়ের পর স্বামীর সাথে প্রথমে উপজেলার মাঝুখান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।
নিহতের স্বামী রিপন জানায়, ‘সোমবার সকালে বাড়ি ভাড়ার টাকা দিয়েছি কিনা তা জিজ্ঞেস করে আখি। পরে ভাড়া দেয়া হয়নি বলে জানালে সে আর কারো কথা শুনতে পারবেনা বলে জানায়। এর কিছুক্ষণ পর বাথরুম থেকে এসে দেখি আখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক ডাকাডাকি করেও না খোলায় পরে অন্য ব্যবস্থায় দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে দেখি গলায় ওড়না পেচিয়ে সে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে।’
‘পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কোনাবাড়ি এলাকার শরিফ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতু ঘোষণা করেন।’
এদিকে, শরীফ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ‘আখিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।’
সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকার লোকজন জানায়, স্বামী রিপন তাকে নিজেই হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে বলে মিথ্যা প্রচার করছে এবং লাশ দ্রুত দাফনের পায়তারা করছে। এছাড়া আখিকে নাবালিকা অবস্থায় পরিবারের লোকজন ওই ছেলের সাথে বিয়ে দেয়। আগামী বছর তার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।
কালিয়াকৈর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
