‘ভোট আমানত এটার খেয়ানত করবেন না’

প্রকাশিত: August 5, 2013 | সময়: 1:07 pm

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সৎ ব্যক্তিকে রেখে সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বেছে নিলে আমাদের কিছুই বলার নেই। জনগণকে আমি সতর্ক করে বলতে চাই, তারা যেন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও যারা দেশের উন্নয়ন করে- তাদেরকে ভোট দেন। আমাদেরই ঠিক করে নিতে হবে, আমরা অন্ধকার যুগে ফেরত যাবো, না আলোকিত পথে হাঁটবো। ভোটাধিকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এটি জনগণের আমানত। কোন অপাঙ্ক্তেয় ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে আমানতের খেয়ানত করবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে সরকারের অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন আছে। সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমলের উন্নয়নের চিত্র তুলনা করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষকে। গতকাল কুড়িল উড়াল সেতু উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে শিা বিস্তারে উপবৃত্তি দেয়া, সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কমিউনিটি কিনিক স্থাপন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া, হাতে হাতে মুঠোফোন পৌঁছে দেয়া, বিভিন্ন সড়ক ও সেতু নির্মাণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষকে ‘বিবেচনা’ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মেছিল। কারণ, তাঁর ভাষায় সরকার সুখী, সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার জন্য কাজ করছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের দেশে রূপান্তর করে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি না, বাংলাদেশের মানুষ কি আবার অন্ধকার যুগে ফেরত যেতে চায়। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তিনি নতুন ধারার সরকার গঠন করবেন। তার মানে নতুন নিয়মে দুর্নীতি করবেন। আমরা ৫৬৪৪টি নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে হেরে গেছি। কিন্তু ভোট চুরি করিনি। জনগণ ভোটের মালিক। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তাকেই আমরা মেনে নেবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন উনি নাকি নতুনভাবে দেশ পরিচালনা করবেন। অর্থাৎ নতুনভাবে দুর্নীতি করার নতুন কোন পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করবেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে যদি তিনি কালো টাকা বানান, দুর্নীতি করেন আর জরিমানা দিয়ে তাকে তা শোধ করতে হয় তাহলে দুর্নীতি কোন পর্যায়ে ছিল তা বিবেচনা করে দেখবেন। আর এই সরকারের সঙ্গে তুলনা করে দেখবেন। তিনি বলেন, এখন নিজেদের অর্থায়নে কাজ শুরু করতে পদ্মা সেতুর টেন্ডার হয়েছে। ২০০১ সালের বিএনপির দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও মানুষের মাথাপিছু আয় ও রিজার্ভ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় এখন বিদেশে গিয়ে মানুষ চাকরি করতে পারছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব খোন্দকার শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহ ও রাজউক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা অনুষ্ঠানে বক্তব্য  দেন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুড়িল মোড় থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত তিন দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘কুড়িল উড়াল সেতু’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরপরই সেটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এর আগে ২০১০ সালের ২রা মে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩০৬ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের পুরো অর্থ রাজউকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে।