লাইফস্টাইল ডেস্ক ॥
ঢাকা: কর্মস্থলে প্রত্যেক কর্মীরই উচিত প্রতিষ্ঠান ও নিজের ক্যারিয়ার উন্নতির জন্য সচেষ্ট থাকা। যদিও অনেকে এ বিষয়গুলো মানলেও বাস্তবে এমন সব কর্মকাণ্ড চালান, যা তাদের ক্যারিয়ারে বিরুপ প্রভাব ফেলে। এ লেখায় থাকছে তেমন কিছু অভ্যাস, যা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ত্যাগ করা উচিত।
১. রাজনৈতিক আলাপ
শুধু রাজনীতির আলোচনা করতে গিয়ে বহু মানুষ কর্মস্থলে বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এটি অনেকেরই স্বভাবগত অভ্যাস। যদিও রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা কোনো কাজের বিষয় নয়। এতে প্রচুর সময় ও শ্রম যেমন ব্যয় হয় তেমন কাজের পরিবেশও নষ্ট হয়। তাই সবারই নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস নিজের কাছেই রাখা উচিত। এজন্য অন্যকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা বাদ দেওয়া উচিত। কর্মস্থলের সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে রাজনৈতিক আলোচনা করা কিংবা অন্যের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত না থাকলে তা আপনার ক্যারিয়ারের সর্বনাশও ঘটাতে পারে।
২. পরচর্চা
কর্মস্থলে পরচর্চা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর। আপনার সম্পর্কে অন্য কেউ নেতিবাচক আলোচনা করলে যেমন আপনি বিব্রতবোধ করবেন তেমন অন্যরাও তাদের অবর্তমানে নেতিবাচক আলোচনায় বিব্রতবোধ করতে পারে। তাই পেছন থেকে নেতিবাচক আলোচনা বাদ দিন।
৩. অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
বহু মানুষই কর্মস্থলে অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তাদের অনেককে দেখা যায় ক্রিকেটের মতো খেলায় খেলোয়াড়দের নানা আচার-আচরণ কিংবা নীতি নিয়ে ফেসবুক গরম করতে। এমন মানুষদের উচিত কর্মস্থলে এসব বিষয় নিয়ে বাড়তি সময় ব্যয় না করা। এতে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো হবে তেমন সুস্থ কর্মস্থলও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
৪. আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ
বছরের কোনো এক সময় অত্যন্ত ঠাণ্ডা পড়বে, কোনো সময় অতিরিক্ত গরম পড়বে এমনটাই স্বাভাবিক। এজন্য কর্মস্থলে এসব বিষয় নিয়ে বাড়তি আলোচনা করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। আর এজন্য ঝামেলা মনে হলে রেইন কোট কিংবা ছাতা কিনে নিন। অন্য সহকর্মীদের বিরক্ত করার প্রয়োজন নেই।
৫. ট্রাফিক জ্যামের অজুহাত
ট্রাফিক জ্যাম যে কোনো বড় শহরের নিত্যদিনের ঘটনা। এ জ্যাম থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। তাই সময়মতো অফিস ধরতে বিষয়টি মেনে নিয়ে বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হবে। সঠিকভাবে সময় পরিকল্পনা করে ট্রাফিক জ্যামের সমস্যাকে দূরে সরানোই ভালো। অফিসে দেরি করে আসার পেছনে ট্রাফিক জ্যামের দোষ না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. তারকাদের অনুসরণ সিনেমায় আমরা এমন বহু বিষয় দেখি, যা বাস্তবে অসম্ভব। ঠিক একইভাবে তারকাদের পোশাক, ডায়ালগ, আচার-আচরণ ইত্যাদি চলচ্চিত্রেই মানায়। আপনি যদি তা বাস্তবে অনুসরণ করেন তাহলে তা বোকামি ছাড়া অন্য কিছু নয়।
৭. অভিযোগ
কর্মস্থলে কাজের চাপ অনেক বেশি কিংবা বেতন কম থাকার অভিযোগ অনেকেই করেন। আপনার যদি এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করুন। সরাসরি এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের কাছে না জানিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না। তাই সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই জানানো উচিত। কর্মস্থলে নিজের কাজটি ভালোভাবে করে উন্নতির জন্য চেষ্টা করা এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায়।

