জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ,
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিত্রটাই যেন পাল্টে গেছে। এতোদিন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতারা স্কুল ফাঁকি দিয়ে নিয়োগ, বদলী, বেতন স্কেলসহ শিক্ষকদের নানা সুবিধা অসুবিধা নিয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে ভীড় করতেন। শিক্ষক নেতাদের তদ্বীরে কর্মকর্তারাও ছিলেন অতিষ্ঠ। শিক্ষক নেতাদের হাতে অনেক কর্মকর্তাও অপমান অপদস্ত হয়েছেন। নেতাদের বদলী বানিজ্য ছিল আলোচিত ঘটনা। টাকার বিনিময়ে সুবিধা জনক স্থানে বদলী করা হচ্ছিল। কিন্তু সেই চিরচারিত নিয়ম আর নেই। এখন যত প্রভাবশালীই হোক না কেন শিক্ষক নেতাদের সকাল ৯টার মধেই নিজ নিজ স্কুলে উপস্থিত হতে হয়। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আর তাদের চলে না দলবাজী ও তদ্বীর। আর এই অসাধ্য সাধন করা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ করিমের কঠোরতা ও শক্তিশালী উপজেলা শিক্ষা কমিটি গঠনের মাধ্যমে। এই কমিটির সভাপতি হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কমিটিতে সরকারী দলের প্রতিনিধি ও স্থানীয় পৌর মেয়রেরও প্রতিনিধি রয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদ করিম জানান, শিক্ষক নেতাদের সুপারিশে নয়, এখন শিক্ষা কমিটির সুপারিশেই নিয়োগ বদলী হয়ে থাকে। তিনি বলেন, কতিপয় শিক্ষক নেতাদের ক্লাসে ফেরানে ছিল একটি চ্যালেঞ্জ কাজ। আর আমরা সেই কাজটিই করতে পেরেছি। তিনি আসার পর গত ৬ মাসের মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিত্র পাল্টে গেছে। এখন আর শিক্ষক নেতাদের অফিসে দেখা যায় না। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন বলেন, শিক্ষকদের সব ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের একটাই কাজ প্রাথমিক স্কুলে সময়মতো উপস্থিত হওয়া এবং ক্লাসে মনোযোগী হওয়া।
