তুহিন আহমেদ ॥
কালিয়াকৈর : গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা নতুনপাড়া রাশিদা বেগম জামে মসজিদের পুনঃনির্মাণের কাজে বন বাধা দেয়ার প্রতিবাদ করায় বন কর্মকর্তারা সাব্বির নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। এঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় শনিবার রাতে চন্দ্রা বন বিট কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমান (৪৫) কে প্রধান ও ৪ বন প্রহরীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫জনকে আসামী করে একটি মামলা (নং ৩১) দায়ের করা হয়েছে।
আহত সাব্বির জেলার কালিয়াকের উপজেলার চান্দরা নতুনপাড়া এলাকার মৃত. হাবিবুল্লার ছেলে।
মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলো-বন প্রহরী বেলায়েত হোসেন (৪০), বন প্রহরী আরমান (৩৮), বন প্রহরী মোঃ আলী হোসেন (৪১), বন প্রহরী মান্নান (৩৭)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা নতুনপাড়া রাশিদা বেগম জামে মসজিদটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলাকাবাসি। পরে গত ২৬ জানুয়ারি মসজিদটি পুনঃনির্মাণের জন্য ১০ জন রাজমিস্ত্রি কাজ করছিল। এসময় চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমান ও উল্লেখিত বন প্রহরীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫জন সন্ত্রাসী নিয়ে কাজে বাধা প্রদান করেন। এসময় রাজমিস্ত্রি সাব্বিরকে ডেকে নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি কাছে থাকা মজিদ ফান্ডের টাকা থেকে ৫লাখ টাকা এনে দিতে বলে। সাব্বির এর প্রতিবাদ করলে তাকে দা দিয়ে কুপ দেয়। এতে সাব্বিরের মাথার ডান পাশে এবং ডান হাতের কব্জিতে লাগলে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসি এগিয়ে আসে এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
উল্লেখ্য, চন্দ্রা বন বিট কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমান এ অফিসে যোগদান করার পর থেকে এ বিটের আওতাধীন বনের জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা, দোকানপাটসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। আর এর সবকিছুই করা হয়েছে তাকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে।
এব্যাপারে চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কি নিউজ করেন ভাই, অফিসে আসেন চা খেয়ে যান।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মোতালেব মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

