বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী জোসেলিন ওয়াইল্ডেনস্টেইন নামে বিলিয়নেয়ার নারীকে অনেকেই চেনেন তার ডিভোর্স মামলার কারণে। ডিভোর্সের সময় তিনি আড়াই বিলিয়ন ডলার লাভ করেন। এছাড়া তিনি একজন লেখকও বটে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তার পাগলাটে জীবনযাপন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী এ নারী ১৯৯০ দশকের শেষদিকে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটান। এ সময় তিনি বিয়ে বিচ্ছেদে যে আড়াই বিলিয়ন ডলার লাভ করেন তা ইতিহাসের অন্যতম দামি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা। নিজের মুখ ব্যতিক্রমীভাবে প্লাস্টিক সার্জারি করে তিনি আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করেন, যা বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের আরেকটি কারণ। এ লেখায় রয়েছে তার জীবনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা-
১. জোসেলিন ওয়াইল্ডেনস্টেইন ১৯৪০ সালের ৫ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের লউসানে জন্মগ্রহণ করেন।
২. মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী জোসেলিন ওয়াইল্ডেনস্টেইন কিভাবে বড় হয়ে উঠলেন সে সম্পর্কে তেমন একটা জানা যায় না।
৩. ১৭ বছর বয়সে তার জীবন পাল্টে যায়। এ সময় তিনি সুইস চলচ্চিত্র প্রযোজক সাইরিল পিগুয়েটের সঙ্গে ডেটিং শুরু করেন।
৪. তিনি নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনকে জানান, তার কখনোই ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগ ছিল না। তবে তিনি জানিয়েছেন তার ক্যারিয়ারের তুলনায় ‘ডেকোরেশনের’ প্রতি মনোযোগ বেশি ছিল এবং এবং এতে তিনি খুবই পারদর্শী।
৫. পরবর্তীতে তিনি ইউরোপিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সার্জিও গোবির সঙ্গে জুটি বাধেন। সার্জিওর সঙ্গে তিনি পাঁচ বছর ধরে আফ্রিকায় কাটান।
৬. তিনি নিজেকে কেতাদুরস্ত সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিণত করেন। আর এ কারণে তার পরিচিত ব্যক্তিরা ছড়িয়ে পড়েন সারা বিশ্বে।
৭. তিনি অ্যালেক ওয়াইল্ডইনস্টেইনকে বিয়ে করেন। তবে এ বিয়েতে অ্যালেকের বাবার মত ছিল না। অবশ্য তারা এ মতের পাত্তা দেননি।
৮. বিয়ের এক বছর পর জোসেলিন তার স্বামীর অর্থবিত্ত অযাচিতভাবে ওড়ানো শুরু করেন। তিনি মূল্যবান কসমেটিকস সার্জারির মাধ্যমে নিজের চেহারা সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করেন।
৯. নিজের চেহারা সুন্দর করার কারণ হিসেবে তিনি স্বামীর কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখানোর কারণ উল্লেখ করেন। যদিও এ কাজে তিনি দুই মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন।
১০. তিনি কসমেটিকস সার্জারির পেছনে তার স্বামীর বড় বিড়াল প্রীতিকে উল্লেখ করেন। বড় বিড়ালের মতো করেই তিনি তার চেহারা বানাতে চান বলে দাবি করেন।
১১. অ্যালেক ভ্যানিটি ফেয়ারকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সে অত্যন্ত ক্রেজি। সে তার মুখকে ফার্নিচারের মতোই মনে করে এবং তার মতো সাজাতে চায়। যদিও মানুষের ত্বক সেভাবে কাজ করে না। কিন্তু সে কথা শুনেনি।
ফড়হিষড়ধফ (৫)
১২. ১৯৯৭ সালে ওয়াইল্ডেনস্টেইন দাবি করেন তিনি ২১ বছর বয়সী রাশিয়ান মডেলের সঙ্গে তার স্বামীকে বিছানায় দেখেছেন। আর এ কারণে তিনি বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করেন।
১৩. তাদের বিয়ে বিচ্ছেদটি সহজভাবে হয়নি। এজন্য দুই বছর ধরে আইনগত ঝামেলা পোহাতে হয়।
১৪. শেষ পর্যন্ত ওয়াইল্ডেনস্টেইন ও অ্যালেকের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এতে তিনি পরবর্তী ১৩ বছর ধরে প্রতি মাসে ১০০ মিলিয়ন ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে নির্ধারিত হয়।
১৫. বিয়ে বিচ্ছেদের পর কিছুটা নিভৃত জীবনযাপন করেন ওয়াইল্ডেনস্টেইন। মিডিয়া এড়িয়ে চলেন।
১৬. তবে ফ্রেঞ্চ ডিজাইনার বয়ফ্রেন্ড লয়েড ক্লেইনের ফ্যাশন শোতে ওয়াইল্ডেনস্টেইনকে দেখা যায়। তারা ২০০০ সালের শুরুর দিকে ডেটিং শুরু করেন।
১৭. সবশেষ ওয়াইল্ডেনস্টেইনকে জনসম্মুখে দেখা গেছে গত অক্টোবর মাসে। এ সময় তিনি ও ক্লেইন নিউ ইয়র্কে একটি প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন।

