বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
বেশির ভাগ মানুষই সুখি জীবনযাপন করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে সুখ অধরাই থেকে যায়। কোন কোন সময় আমরা এমন কিছু কাজ করি যা আমাদের অসুখি করে। কিন্তু তারপরও আমরা সেই কাজগুলো কোন না কোন কারণে করতেই থাকি। আজ আমরা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত এমন কিছু কাজের কথাই জানবো যা আমাদের অসুখি করে।
১। ফেসবুক ব্যবহার করা
আপনি কি ফেসবুক পেজে নোটিফিকেশন দেখার ব্যপারে আসক্ত? তাহলে আপনার নিজের সুখের জন্যই বিরতি দেয়ার সময় হয়েছে আপনার। ২০১৩ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ঊঃযধহ কৎড়ংং তার এক গবেষণার ফল প্রকাশ করেন, তিনি নিশ্চিত ভাবে বলেন যে, ফেসবুক ব্যবহারের ফলে আপনি অসুখি হচ্ছেন। তার দলের গবেষকেরা অংশগ্রহণকারিদের প্রতিদিন ৫টি করে বার্তা পাঠাতেন তাদের ফেসবুক ব্যবহার ও এর অনুভূতি জানার জন্য। তারা আবিষ্কার করেন যে, যারা বেশি সময় ফেসবুক বার্তা নিয়ে সময় কাটান তারা অসুখি। তিনি আরো সামঞ্জস্য শনাক্ত করেন যে, যারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশি সময় ব্যয় করেন তারা নিঃসঙ্গতা, অসন্তোষ এবং বিচ্ছিন্নতা এই সমস্যা গুলোতে ভোগেন।
২। দুশ্চিন্তা
চিন্তা আভ্যন্তরীণ অশান্তি সৃষ্টি করে। এটি রকিং চেয়ারের মতোই ক্ষিপ্ত হয়ে চলে কিন্তু কোথাও যায়না। চিন্তা কোন কাজ তৈরি করেনা এটি আপনাকে স্তব্ধ করে দেয় যার ফলে আপনি স্পষ্ট ভাবে ভাবতে পারেন না এবং আপনার মনকে নেতিবাচক ভাবে পরিবর্তিত করে। আপনার পক্ষে যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তার প্রতি আপনার শক্তি ব্যয় করুন, আর যা কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা হতে দিন। ইড়ননু গপঋবৎৎরহ গেয়েছিলেন “উড়হ’ঃ ড়িৎৎু! ইব ঐধঢ়ঢ়ু” . চিন্তার অভাবই সুখ সৃষ্টি করতে পারে।
মার্ক টোয়েন বলেন, “আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ এবং অনেক যন্ত্রণার কথাই জানি কিন্তু এদের বেশির ভাগই কখনো সংগঠিত হয়নি”।
৩। অনেক বেশি টাকা
জীবনধারা বজায় রাখা ও ভালো থাকার জন্য টাকা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু কিছু গবেষণায় প্রকাশ পায় যে, সম্পদশালী ব্যক্তিরাই উচ্চ মাত্রার বিষণ্ণতায় ভোগেন বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১০ সালের এক জরিপে দেখা যায় যে, (৮৯০৩৭ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়) দরিদ্র দেশের মানুষের তুলনায় উচ্চ আয়ের দেশের মানুষের বিষণ্ণতার হার বেশি। এই তালিকায় শীর্ষে আছে ফ্রান্স, যেখানে ২১ শতাংশ মানুষ বিষণ্ণতায় ভোগে এবং চীনে তা ৬.৫ শতাংশ মাত্র। প্রাচুর্য ও বস্তুগত সম্পদ অর্জনের আকাঙ্খার সাথে ভেতরের অসন্তোষের সম্পর্ক আছে যা মুখোশের আড়ালে থেকে যায়।
৪। অশান্ত মন
হার্ভার্ড এর গবেষক গধঃঃযবি করষষরহমংড়িৎঃয ও উধহরবষ এরষনবৎঃ বলেন, যদিও কল্পনাশক্তি ব্যবহার করা এবং দিবাস্বপ্ন দেখা মজার কাজ তবু ও মনকে বিভিন্ন ভাবে বিচরণ করানোই অসুখি হওয়ার কারণ। ২২৫০ জন স্বেচ্ছা সেবক নিয়ে তারা এই গবেষণাটি করে দেখেছেন যে, ৪৭ শতাংশেরই মন বিচরণ করে। তারা নিশ্চিত হন যে, যখন যে কাজটি করা হয় তার প্রতি মনোযোগী হলে মানুষ সুখি অনুভব করে। তাই বর্তমানে বেঁচে থাকাটাই সুখি হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়।
৫। কর্মক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অভাব
কাজের প্রশংসা না পাওয়া ও অন্যায় আচরণের স্বীকার হলে কর্মক্ষেত্রের বিষণ্ণতা সৃষ্টি হয়। অসুখি হওয়ার এটি একটি কারণ। কর্মক্ষেত্রে অন্যায় আচরণের ফলে স্ট্রেস তৈরি হয়। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাও সুখ নষ্ট করে।
যারা নিয়মিত ফাস্ট ফুড ও জাংকফুড খান তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ ডিপ্রেশনে ভোগে, মনের মধ্যে অসন্তোষ পুষে রাখলে মানুষ সুখি হতে পারেনা। যারা মনে করেন যে, সব কিছুই তার নিয়ম অনুসারেই হবে তারা অসুখি হন। এছাড়াও অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা, যখন সব স্বপ্ন পূর্ণ হবে তখন সুখি হতে পারবেন বলে যারা মনে করেন তারা, নিজের না পাওয়াগুলোকেই যে মানুষ বড় করে দেখে, একা থাকেন যিনি, অসুখি মানুষদের সান্নিধ্যে থাকা, নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকা, অতীত নিয়ে পড়ে থাকেন যারা, ভবিষ্যতের আশায় বর্তমানকে উপভোগ না করা, অসুস্থ থাকে যারা তারা অসুখি থাকেন।

