চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ॥
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৪ জন নিহতের ঘটনায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে কমপক্ষে অজ্ঞাত ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি ও পুলিশের পক্ষে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গতকাল সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনার মর্তুজার আলী এবং আনোয়ারুল ইসলাম ভাই মাওলানা বশির আহমদ বাদি হয়ে বসত ভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৪০০ থেকে ১৫০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে নিহত জাকের আহমেদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমও বাদি হয়ে অজ্ঞাত ১৫০০ থেকে ১৮০০ জনকে আসামি আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একই ঘটনায় পুলিশের ওপর গুলি, কর্তব্য পালনে বাধা ও হামলা অভিযোগ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত সহস্রাধিককে আসামি করে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাহার মিয়া একটি মামলা দায়ের করেন।
এসব মামলায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এলাকায় কোনো পুলিশও মোতায়েন করা হয়নি। এখনও লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
জানাগেছে, সোমবার বাঁশখালির গন্ডমারা গ্রামে এস.আলম গ্রুপের ঐ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে বিপক্ষে সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় দুই পক্ষে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে গুলিতে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- গণ্ডামারা ইউনিয়নের মৃত আশরাফ আলীর পুত্র আনোয়ারুল ইসলাম প্রকাশ আঙ্কুর নূর (৬০), মর্তুজা আলী (৫০), জাকের আহমেদ (৫০) ও জাকের হোসেন (৩০)।
প্রথম তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। জাকের হোসেনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এখানে আঙ্কুর নূর ও মর্তুজা আলী সহোদর এবং জাকের হোসেন মর্তুজা আলীর মেয়ের জামাই। সোমবার বিকেলে ৪টার দিকে স্থানীয় গণ্ডামারা হাজী পাড়া স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলার গণ্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চাইনা সেফকো কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিপক্ষে গত কয়েক মাস ধরে এলাকাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সেই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাধা প্রদান করছে স্থানীয় জনতা। প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষে দুইটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। একটি পক্ষ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিরোধে মিছিল মিটিং, সভা, সমাবেশের মাধ্যমে জোর প্রতিবাদ চালাচ্ছে।
ওই পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে আছেন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম মাষ্টার। এর আগেও গত ১৮ মার্চ এনিয়ে দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে নিয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী মিছিলে গুলি চালিয়ে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

