ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ॥ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া যানজট অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র এ যানজট নিরসনে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশসহ সরকারি অন্যান্য বাহিনী। তবে এলেঙ্গা থেকে সেতুপূর্ব এলাকা পর্যন্ত থেমে থেমে কিছু যানবাহন চলাচল করছে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলের উদ্দ্যেশে যাত্রা করা বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ গাড়িতে বসেই পার করছেন ঘন্টার পর ঘন্টা। ক্ষুধা, পানি ও স্যানিটেশন সমস্যায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বেশি। বাসের ভেতরে থাকা নারী ও শিশুদের ক্ষুধায় কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। অনেকই আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। সড়কের পাশে দোকান পাট না থাকায় কেউ কেউ রাস্তার পাশের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার কিনে আনছেন। এলাকার লোকজন খিচুরি রান্না করে ছোট পলিব্যাগে করে ব্যাগপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এছাড়াও প্রতি গ্লাস পানি বিক্রী করা হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকায়। ক্ষুধার্থ যাত্রীরা ওই খাবার খেয়ে কোন রকম ক্ষুধা নিবারণ করছেন। এলেঙ্গায় কথা হয় একতা পরিবহনে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশে আসা দুই সন্তানসহ মহিলা যাত্রী মনিরা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় গাবতলী থেকে বাসে উঠেছি বগুড়া যাব। পনের ঘন্টায় সবেমাত্র এলেঙ্গা এসেছি। কখন বাড়িতে পৌছতে পারবো তা বলতে পারছি না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়া আরেক যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ১৭ ঘন্টা আগে বাসে উঠেছি। রাস্তার পাশে দোকান পাট না থাকায় ৪০ টাকা দিয়ে এক ব্যাগ খিচুড়ি ও ১০ টাকায় দুই গ্লাস পানি খেয়ে ক্ষুধা মিটিয়েছি। মনিরা বেগম ও মোস্তাফিজুর রহমানের মত হাজার হাজার যাত্রী অকল্পনীয় এ দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। যানজটের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হারেচ আলী মিয়া বলেন, এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যানজট অনেকটা কমে গেছে। তবে যানচলাচল স্বাভাবিক হতে আরো কয়েকঘন্টা সময় লাগবে। টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আসাদুজ্জামান জানান, গত দুই বছরে এমন যানজট আর চোখে পড়েনি। যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পুরো দমে যান চলাচল শুরু হতে আরো বেশ সময় লাগবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকার এই যানজট ঢাকার অদূরে চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।

