বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা : রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি নিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সুইফট। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ব্রাসেলসভিত্তিক বৈশ্বিক এ সংগঠনের টেকনিশিয়ানদের ‘অবহেলায়’ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ অ্যাকাউন্টের ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চোরেরা তুলে নেয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে তদন্ত দলের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পর এ প্রতিক্রিয়া জানানো হল।
সোমবার সুইফটের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংবাদ দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কোনো সদস্যের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বের অংশ নয়।
বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত রোববার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুইফট মেসেজিং প্ল্যাটফরমের সঙ্গে একটি নতুন ট্রানজেকশন সিস্টেম যুক্ত করেন সুইফটের টেকনিশিয়ানরা। ওই সিস্টেমের দুর্বলতায় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার হ্যাকারদের সামনে অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
সুইফট বলছে, ‘সুইফটের সঙ্গে যুক্ত প্লাটফর্ম এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায় অন্য সব সদস্যের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের। প্রাথমিক পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য।’
গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন ডলার তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর ৮১ মিলিয়ন সরিয়ে নেয়া হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায় চার ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে। ওই টাকার বড় একটি অংশ চলে যায় দেশটির জুয়ার আড্ডায়।
বাকি ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলংকার সেচ্ছাসেবী সংস্থা শাকিলা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। প্রাপক সংস্থার নামের বানানে ভুল থাকায় টাকার পেমেন্ট আটকে দেয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।
রিজার্ভ চুরি নিয়ে তদন্তে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক শাহ আলমকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, রিজার্ভ চুরির তিন মাস আগে সুইফটের টেকনিশিয়ানরা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেম’ এর সঙ্গে সুইফটকে যুক্ত করে যান।
‘ওই সিস্টেমে আমরা বেশ কিছু লুপহোল খুঁজে পেয়েছি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে গেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে সুইফট মেসেজিং প্ল্যাটফরমের সঙ্গে ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেম’ যুক্ত করার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করার কথা সুইফট ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু সংগঠনের টেকনিশিয়ানরা তা করেননি।
আর এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট মেসেজিং প্ল্যাটফরমে প্রবেশ করার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। এমনকি সহজ একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রিমোট একসেসের (অন্য একটি কম্পিউটার থেকে) মাধ্যমেও ওই প্ল্যাটফরমে ঢোকার সুযোগ থেকে যায়। পুলিশ বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্ল্যাটফর্মের সাইবার নিরাপত্তার জন্য কোনো ফায়ারওয়াল ছিল না। ব্যবহার করা হচ্ছিল সাধারণ সুইচ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্বলতাগুলো খুঁজে দেখা সুইফটের দায়িত্ব ছিল, কেননা তারাই ওই সিস্টেম বসিয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু তারা তা করেনি।’
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের বেসেলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকের নিরাপত্তার পাশাপাশি এসব ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ নিয়ে আলোচনা হবে সুইফটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
বেসেলে ওই বৈঠকে যোগ দিতে গভর্নর ড. ফজলে কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রোববার রাতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।
ওই বৈঠকে রিজার্ভ চুরির ঘটনা এবং খোয়া যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সুইফট ও নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের ‘কিছুটা দায়’ রয়েছে বলে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করছেন। সেকারণে চুরির এ ঘটনার দায় তারাও নেবেন বলে আশা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের।

