মিশরের গণতন্ত্রে পশ্চিমারা কিভাবে ব্যর্থ

প্রকাশিত: August 18, 2013 | সময়: 12:24 pm

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মিশরে ােভ, উত্তেজনায় যে পরিমাণ মানুষ নিহত হয়েছেন তাতে আপনি বিস্মিতই হতে পারেন। তুলনা করতে পারেন নিহতের এই সংখ্যা মাত্র দু’বছর আগে মতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের সময়ে নিহতের সংখ্যার তুলনায় কত নগণ্য। আন্তর্জাতিক জরিপ বার বারই বলে দেয় যে, সঙ্কট ও বিশৃঙ্খলার সময় বেশির ভাগ মানুষ পছন্দ করেন শান্তি ও নিরাপত্তা। মিশরীয়রা হোসনি মুবারককে ছুড়ে ফেলেছিলেন ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য। এর প্রতিদানে তারা হারিয়েছে নিরাপত্তা। কি এমন ভুল হয়েছে? এখন ঘটবেই বা কি? মিশরে স্বৈরাচার গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। এর কবল থেকে বেরিয়ে গঠনমূলক গণতান্ত্রিক কাজের চেয়ে তার কাছে জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটা সহজ। গণতন্ত্র কোন স্বল্প সময়ের বিষয় নয়, যা বাইরের দেশ থেকে ডাউনলোড করে নেয়া যাবে। এটা হতে হচ্ছে আচরণভিত্তিক, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠবে। এর গাঠনিক কাঠামোতে থাকবে সুশীল সমাজ। তাদের সঙ্গে আচরণ হতে হবে গিভ অ্যান্ড টেক। অর্থাৎ কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে। পর্যায়ক্রমে স্বৈরাচারের হাতে শাসিত হয়েছে মিশর। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ যে ভূমিকা আছে তা প্রয়োগের অধিকার তারা কখনও পায় নি। কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা মিশরে যা দেখছি তা তারই ফল। হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য একসময় জেল দেয়া হয়েছিল সমাজবিজ্ঞানী সাদ এদ্দিন ইব্রাহিমকে। তিনি সাহসী একজন মানবাধিকার কর্মী। এখন মিশরে যা চলছে তাকে তিনি লড়াই বলছেন। দেশবাসীকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আপনারা হোসনি মুবারককে ৩০ বছর সময় দিয়েছেন। আমাদেরকে কিছুটা সময় দিন। হোসনি মুবারককে লালন পালনের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। সেই যুক্তরাষ্ট্র এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার েেত্র দ্বিধায়। কোন পকে তারা সমর্থন দেবে তা নির্ধারণ করতে পারছে না। মিশরের মতা এখন তিনটি ধারায় বিভক্ত। একপে রয়েছে ইসলামপন্থি দল মুসলিম ব্রাদারগুড। অন্যদিকে রয়েছে ধর্মনিরপে বলে একটি গ্রুপ। তৃতীয় প হলো সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে দেশের অখণ্ডতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। তবে তাদের রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক স্বার্থ। তাদের এই স্বার্থ নিরাপদ করতে চায়। এক বছর আগে যখন মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন ওবামা প্রশাসন ও মার্কিন কংগ্রেসকে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করানোর জন্য কঠোর কাজ করতে হয় মার্কিন দূতাবাসকে। এ সময়ে মুরসি সরকারকে সহনশীলতার পরিচয় দিতে বলা হয়। একই সময়ে ওইসব কূটনীতিক মিশরের সেনাদের নিরপে থাকার চেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভারসাম্য রার সেই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। রাজনীতি নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে মুরসির কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট। তিনি সব কিছু ম্যানেজ করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।
জেরেমি কিন্সম্যান কানাডার দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রদূত। সিবিসি নিউজে তার লেখার নির্বাচিত অংশের অনুবাদ।