বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
‘হকারদের তুলে দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। হকারদেরও জীবন আছে। এই আয়ে তাঁদের সংসার চলে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না’। রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে এমন সব মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। শুক্রবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। হকারদের উচ্ছেদ করতে গেলে বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মেয়র আনিসুল হক।
অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানে ছাত্রলীগের অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, সাব্বির ও আশিকুর গুলি করেছে কিনা তা আমি দেখিনি। বৈধ অস্ত্র দিয়ে যদি কেউ গুলি করেও থাকে তা দোষের নয়। বরং আত্মরক্ষার জন্য তারা যা করেছে সেটি সমর্থনযোগ্য। তবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃসাহস যেন কেউ না দেখাতে পারে সেজন্য কঠোর হাতে দমন করা হবে।
উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ঢাকার দুই মেয়র পৃথক মন্তব্য করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতের অবৈধ দোকান উ”েছদের সময় হকারদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়।
ওই সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমানকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। র্যাব-পুলিশের সামনেই এ দুই ছাত্রলীগ নেতা অস্ত্র দেখিয়ে হকারদের ভয় দেখান। এসময় দুজনসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দুই ছাত্রলীগ নেতার প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার ছবি গণমাধ্যমে আসায় এ নিয়ে শুরু তোলপাড় হয়েছে। অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশ হওয়া তারা এখন আলোচনায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ, এনিয়ে থানায় কোনো মামলাও হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদের পর আবারও হকাররা বসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কয়েকজন হকার আগের দিনের ভাঙাচোরা আসবাব মেরামত করছেন। হকাররা কে কোথায় বসবেন, তা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন কয়েকজন ব্যক্তি। হকারদের দোকানের সীমানা অনুযায়ী চাঁদা আদায় করছেন তাঁরা। পুরোদমে বেচাকেনা চলছে। শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে চাঁদা আদায়কারী কয়েকজনকে গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের ২০ নম্বর ওয়ার্ড ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ২০ ওয়ার্ডের কার্যালয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।
ঢাকা ট্রেড সেন্টারের পূর্ব পাশের ফুটপাতে প্রায় দুই বছর ধরে জামা-কাপড় বিক্রি করেন আবদুল বাতেন ও শফিকুল ইসলাম। আলাপকালে তাঁরা বলেন, পুরো গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত ও রাস্তার ওপর প্রায় দেড় হাজার হকার বসেন। তাঁদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকা হারে চাঁদা তোলা হয়, যা মাসিক ১ কোটি ৩৫ লাখে দাঁড়ায়। একই কথা বলেছেন গুলিস্তান ট্রেড শপিং কমপ্লেক্সের সামনের ফুটপাতে বসা হকার কাউছার আলম ও সুজন মোল্লা।
ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা ও ঢাকা ট্রেড সেন্টার (দক্ষিণ) মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, গুলিস্তানের প্রতিটি ফুটপাত থেকে মার্কেটের দ্বিতীয় তলা বরাবর শামিয়ানা টানিয়ে ব্যবসা করেন হকাররা। এতে বাইরে থেকে মার্কেট বোঝা যায় না, পরিবেশ নষ্ট হয়। এ ছাড়া এই অব্যবস্থাপনার কারণে দিনে দিনে গুলিস্তানের মার্কেটগুলোতে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। তাঁরা বলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁদের ফুটপাতে বসতে সহযোগিতা করছে একটি চক্র। এই চক্র কারা, তা তাঁরা বলতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের কমিশনারের দায়িত্বে থাকা তারেক বিন রশিদ বলেন, পুলিশ টাকা নেয়, এটা কমন অভিযোগ। কিন্তু সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তবে সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশের দায়ী সদস্যের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

