শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে পর্নসাইট আসক্তি

প্রকাশিত: December 11, 2016 | সময়: 12:00 pm

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
রাজধানীর স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পর্ণ ছবির আসক্তি। ইন্টারনেটে পর্ণ সাইটের অনিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার জগতের দিকে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এই শিশু কিশোররাই জড়িয়ে পড়ছে বড় বড় অপরাধের সাথে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেবার আহ্বান সমাজবিজ্ঞানীদের।

প্রযুক্তির কল্যাণে শিশুদের হাত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে স্মার্ট ফোন। অভিভাবকের অসচেতনতা আর ইন্টারনেটে পর্ণ সাইটের অনিয়ন্ত্রণ অজান্তেই শিশু কিশোরদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে পর্ণগ্রাফির অন্ধকার জগতে। এই অন্ধকার শিশুর সামনে জ্বলতে থাকা সম্ভাবনার সবটুকু আলো একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে।

একটি বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজধানীতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৭ ভাগ কোন না কোন ভাবে পর্ণগ্রাফি দেখছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা এসব শিশু পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

সমাজবিজ্ঞানী ড. মনিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটার কাঙ্খিত রূপটা কি? একটা মেয়ের একজনের পরিচয় হবে। সেটার পরিণতি শেষ পর্যন্ত বিয়ে হতে পারে। কিন্তু তার আগেই যদি সে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তাহলে একটা বয়স পরে যৌনতার প্রতি তার অনাগ্রহ তৈরি হবে’।

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘পর্ণগ্রাফির আসক্তি যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এটা ব্যাধীর মত হয়ে যাবে। এটা আমাদেরকে যেকোন মূল্যে এই অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে’।

সমস্যা সমাধানে শিগগিরই সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি তৈরির মাধ্যমে শিশু কিশোরদের ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানিয়েছেন আইসিটি মন্ত্রী।
পর্ণগ্রাফির ছোবল অধিকাংশ শিশুদের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের পাশাপাশি অনেক শিশুদের পর্নগ্রাফি তৈরি করতে উৎসাহী করছে। ধীরে ধীরে এই শিশুরাই খুন, রাহাজানী মাদকাসক্তির মত বড় বড় অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে মত সমাজবিজ্ঞানীদের।

সূত্র: সময় টিভি