২০১৬ তে যেমন ছিলো দেশের উন্নয়ন

প্রকাশিত: December 27, 2016 | সময়: 9:48 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
২০১৬ সাল ছিল সরকারে জন্য সফল তম বছর। এ বছর সরকারে মন্ত্রণালয় গুলোতে ব্যর্থতার চেয়ে সফলতাই ছিল বেশি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার কারণে দেশের অর্থনীতি একটি মজবুত স্থানে দাঁড়িয়েছে।

বছর শেষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কিছু দিক নিয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরেছে বিডি টোয়েন্টি ফোর লাইভ ডটকম।

পরিকল্পণা মন্ত্রণালয়:
২০১৬ সালে এ মন্ত্রণালয়ে দেশের ইতহাসে সব থেকে বেশি উন্নয়ণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে । প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের অগ্রগতি ছিল চোখে পড়ার মত।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালে মোট ৩৫৬ টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে একনেক বৈঠকে। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০১৫ সালে একনেকে বৈঠকে মোট উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় ২৯৭ টি। আগের বছর অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৩১৪ টি প্রকল্পের। সে হিসেবে ২০১৬ সালে গত কয়েক বছরের তুলনায় উন্নয়ন প্রকল্প বেড়েছে।

আয় ও জিডিপিতে রেকর্ড:
বাংলাদেশের ইতিহাসে মাথাপিছু আয় ও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি রেকর্ড পরিমাণে অর্জন হয়েছে ২০১৬ সালে । জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য ৫ হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৫০৭ টাকা। আগের বছর মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৩১৬ ডলার।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পালে হাওয়া লেগেছে ২০১৬ সালে। গত বছরের তুলনায় বেড়েছে এডিপি বাস্তবায়ন হার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) পর্যন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এ চিত্র। যদিও সমান তালে এগুতে পারছে না কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা।

এডিপি বাস্তবায়নে অগ্রগতি হওয়ার পিছনে বিভিন্ন কৌশল কাজ করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, এডিপির বিষফোঁড়া হিসাবে থাকা ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত ও সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও ছিল এই বছরে।

আইএমইডি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৭ শতাংশ। এখনো ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন হার। চলতি অর্থবছরে মোট এডিপির আকার হচ্ছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মোট ২৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১৭ হাজার ১১ কোটি টাকা।

এগিয়ে থাকা দশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ :
২০১৬ সালের পাঁচ মাসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৬৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৩৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

এ ছাড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ৩৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৩৬ দশমিক ১১ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ২৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।

পাঁচ শতাংশের নিচে এডিপি বাস্তবায়ন:
২০১৬ সালের (জুলাই-নভেম্বর) পাঁচ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন শূন্য শতাংশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২ দশমিক ৪২ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, শিল্প মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার মাত্র ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ফলে এ মন্ত্রণালয় গুলো ব্যার্থতার প্রমাণ দিয়েছে।

বেঁচে যায় ধীর গতির ৩০ প্রকল্প :

২০১৬ সালে বাদ পড়তে পড়তে শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায় ধীর গতির ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প। বাকি ৬টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে ছিল। এডিপিতে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পাঁচ শতাংশের নিচে। বছরের পর বছর পার হলেও প্রকল্পগুলো ঝুলে ছিল। অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেছে মেয়াদও। এসব প্রকল্প এডিপি থেকে বাদ দিতে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাস্তবায়নকারী সংস্থার অনুরোধে শর্ত সাপেক্ষে এগুলো বাতিল করা হয়নি। ২০১৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এসব প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরিকল্পনামন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই প্রকল্পগুলোর জন্য কয়েকটি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- আগামী ছয় মাসের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ অগ্রগতি দেখাতে হবে, প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন পরিকল্পনা কমিশন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) জানাতে হবে, প্রকল্পে আর মেয়াদ বাড়ানো হবে না, কেন শ্লথ গতি হলো তার ব্যাখ্যা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে।

মন্থর গতির ৩৬ প্রকল্পে ইতোমধ্যেই ব্যয় হয়ে গেছে প্রায় ৭শ’ কোটির টাকারও বেশি। এ তালিকায় গ্রেটার ঢাকা সাসটেইন্যাবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট), কনভারশন অব সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট টু ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।