বাংলাভূমি ডেস্ক ॥ বাসাবাড়ির কাজের জন্য স্থানীয়দের নিয়োগ দিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হংকংবাসী। বাংলাদেশ থেকে গৃহপরিচারিকা আনা হচ্ছে সংবাদ শুনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন একজন হংকং নিবাসী। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রথম দলটি কাজ শুরু করে টেকনিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে। বাংলাদেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিন মাসের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হয়। তাদেরকে ক্যান্টোনিজ ভাষা, চাইনিজ রান্না ও বাসাবাড়ির কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রথম দিকে আগতদের মধ্যে একজন মনোয়ারা। মে মাস থেকে সে ভিকি হো নামের এক হংকং নিবাসীর জন্য কাজ করছে। মনোয়ারার প্রধান দায়িত্ব ভিকির বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা করা। ভিকির থেকে তিনি আলাদা থাকেন, তুয়েশ মুন নামক গ্রামে। মনোয়ারাকে নিয়ে ভিকির অভিযোগ একটাই। সেটা হলো, মনোয়ারা একটু বেশিই পরিশ্রম করে। এমনকি সে সাপ্তাহিক ছুটিও নিতে চায় না। ভিকি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে সাপ্তাহিক ছুটি না নিলে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হবে। ছুটি নেয়ার থেকে তার কাছে একটু বেশি অর্থ উপার্জন শ্রেয়, ভিকিকে উত্তর দেয় মনোয়ারা। বর্তমানে ৫০ জনের মতো বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছে হংকং-এ। ভাষাগত সমস্যার কারণে ১০ জনকে তাদের নিয়োগকারীরা বরখাস্ত করেছে বলে জানান টেকনিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালিক তেরেসা লিউ সুই ইয়ান। অনেক নিয়োগকারী চেয়েছিলেন পরিচারিকাদের ক্যান্টোনিজ ভাষায় বেশ দক্ষ থাকবে। লিউ বলেন, তিন মাসে কত ভালই বা শেখা সম্ভব। কিছু মনিবেরা ধৈর্যচ্যুত হয়ে দু’-এক সপ্তাহ পরই চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেয়। তবে ভিকি হো’র কোন সমস্যাই হচ্ছে না মনোয়ারার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে। মনোয়ারা অল্প ইংলিশ ও চাইনিজ বলতে পারে। ভিকি জানায়, মনোয়ারা যখন প্রথম কাজ শুরু করে তাকে কাজের দিকনির্দেশনা দিতে হয়েছিল। একবার কাজ বুঝে নেয়ার পর তাকে দ্বিতীয়বার কিছু বলতে হয়নি। মনোয়ারা অনেক বেশি পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল বলে জানায় ভিকি। খুব দ্রুতই কাজ বুঝে নিতে পারে সে। এখনও হংকং-এর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে মনোয়ারা। প্রথম যেদিন মনোয়ারাকে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিলেন তার মায়ের সঙ্গে সেদিনের ঘটনা বললেন ভিকি। অনেক জোরাজুরি করেও মনোয়ারাকে খেতে রাজি করাতে পারছিলেন না ভিকি। মনোয়ারা বরং বাইরে অপেক্ষা করতে চাইলো। কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না ভিকি। পরে বুঝতে পারেন, চপস্টিক ব্যবহার করতে না পারার জন্য খেতে চাইছিল না মনোয়ারা। তার জন্য চামচের ব্যবস্থা করেছে ভিকি। মনোয়ারাকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে পেয়ে যারপরনাই খুশি ভিকি হো। এর আগে স্থানীয় কাজের লোক নিয়োগ করে অনেক অপ্রীতিকর অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একজন ৩০০০ হংকং ডলার চুরি করে নিয়ে যায়। হংকং-এ গৃহপরিচারিকার কাজ করে বাংলাদেশী কর্মীরা মাসে ৪০০০ হংকং ডলার উপার্জন করতে পারে।

