বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
সাতটি মুসলিম দেশের অভিবাসী নিষিদ্ধ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জেমস রবার্ট যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তিনি তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইতিমধ্যে সাতটি দেশের অভিবাসীদের যাচাই বাছাই করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিচ্ছে বটে, তবে ট্রাম্প তাদের সাবধানতার সঙ্গে তল্লাশী করার কথা বলে বলেছেন, এধরনের কাজ অনেক কঠিন করে দিয়েছে আদালত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে ফ্লোরিডায় তার মার-আ-লাগো রিসোর্টে রয়েছেন। সিএনএন বলছে হোয়াইট হাউজ স্টাফদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। টুইট বার্তায় ট্রাম্প ফেডারেল জাজকে আরো একবার আক্রমণ করে জানিয়েছেন, কিছু হলে তার দায় এ বিচারকের ওপর পড়বে। এর আগে তিনি ওই বিচারকের সমালোচনা করে অভিবাসী নিষিদ্ধে তার দেওয়া নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশকে অগ্রহণযোগ্য ও হাস্যকর বলেও অভিহিত করেন। ট্রাম্পের ক্রোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিচারক জেমস রবার্টের ওপর। তিনি বলেন, এই বিচারক যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না একজন বিচারক কিভাবে দেশকে এ অবস্থার মধ্যে ফেলে দেন। কিছু হলে আদালত, বিচার ব্যবস্থা বা বিচারকই দায়ী থাকবেন।
বিচারককে ট্রাম্পের সমালোচনা পছন্দ করছেন না মার্কিন নাগরিকরা। তারা বলছেন, বিচারককে ট্রাম্পের ঢালাও সমালোচনা খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি শুধু বিচারকের সিদ্ধান্তকে আক্রমণ করছেন তা নয়, একই সঙ্গে তার এধরনের সমালোচনা এমন একজনকে নিয়ে করা হচ্ছে যিনি এ বিষয়ে আরো সিদ্ধান্ত দেবেন।
সিএনএন’এর প্রতিবেদনে অভিযোগ উঠেছে, যারা হোয়াইট হাউজের সঙ্গে ঘনিষ্ট তারা বিচারককে ট্রাম্পের এধরনের বাক্যবাণকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন। একজন কর্মকর্তা বলেন, কেউ বিচারককে ট্রাম্পের সমালোচনা নিয়ে খুশি নয়। সিনেট সংখ্যাগরিষ্ট নেতা মিচ ম্যাককর্ণেল সিএনএন সাংবাদিক জ্যাক ট্যাপারকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে বিচারককে আক্রমণ করা কোনো ভাল কিছু নয়। আমি মনে করি বিচারককে সমালোচনায় ফেলে দেওয়া বা তাকে চিহ্নিত করা কখনোই ভাল হতে পারে না। মিচের এ বক্তব্যের পর ট্রাম্প তার দ্বিতীয় টুইটে বিচারক জেমস রবার্টকে কোনো খারাপ পরিণতির জন্যে দায়ী থাকবেন বলে বার্তা দেন।
ট্রাম্পের এই টুইট বার্তা তার নির্বাচনী প্রচারিভিযানের সময় বিচারক গঞ্জালো কুইরিয়েলকে বাক্যবাণে আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় জন্মগ্রহণ করলেও গঞ্জালোর পূর্বপুরুষ যেহেতু মেক্সিকান তাই মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলার বিরোধিতা করায় ট্রাম্প তার প্রচ- সমালোচনা করেন। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মাঝখানে প্রাচীর তুলব। গঞ্জালো মেক্সিকান বলেই বিরোধিতা করছেন।

