বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে এসআই হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত: February 6, 2017 | সময়: 12:03 pm

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
আবারো আলোচনায় পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। স্ত্রী মিতু হত্যায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও আরেকটি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহে নিহত পুলিশের সাবেক এসআই আকরামের বোন এই অভিযোগ করেছেন। এদিকে মিতু হত্যার মামলার বাদি বাবুল আক্তারের ভূমিকায় খুশিনন মিতুর বাবাও। বাবুল আক্তারকে  জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

মাহমুদা খানম মিতু হত্যার আট মাস পার হল। কিলিং মিশনে অংশ নেয়া চারজন গ্রেফতার আর দুইজন নিহত হয়েছে বন্দুকযুদ্ধে। ধরা পড়েছে দুই অস্ত্র সরবরাহকারী। কিন্তু এখনও বের হয়নি মূল রহস্য।

তদন্তের শুরু থেকেই স্বামী বাবুল আক্তারের ভূমিকার বিষয়টি ঘুরে ফিরে এসেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর চাকরি হারান বাবুল আক্তার।

সবশেষ বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে পাওয়া গেল নতুন হত্যার অভিযোগ। দুই বছর আগে ঝিনাইদহে এসআই আকরামকে কুপিয়ে হত্যার পেছনে তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আকরামের বোন। ২০১৫ সালের ১৫ই জানুয়ারি কুপিয়ে হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয় পুলিশ।

এসআই আকরামের বোন বলেন, ‘আমাদের কেসটা সেইভাবেই আছে। আমরা আমার ভাইয়ের মৃত্যুর কোন কারণ জানতে পারি নাই। এই কেসে বাবুল আক্তার কাজ করেছে। মাগুরা ও ঢাকায় থেকে আমার ভাইয়ের কেসটা যাতে সুবিচার না পাই এজন্য চেষ্টা করে বেরিয়েছে’।

কিন্তু দুই বছর আগের ঘটনা নিয়ে এখন কেন অভিযোগ? এর জবাবে আকরামের বোন বলেন, ‘এখানকার এসপি সাহেব আমাদের বলছে আপনার ভাইয়ের সম্পদ নেয়ার জন্য ভাইদের পিছনে লাগছেন। এটা আমার ভাইয়ের বিচার না হতে দেওয়ার ফন্দি’।

সব অভিযোগ নিয়ে গত সপ্তাহে বাবুল আক্তরের শ্বশুর মোশাররফের সাথে দেখা করেন  আকরামের বোন।

মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়ায় হতাশার কথা জানান মিতুর বাবা।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাদি হিসাবে আইও সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা সেটা আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। সে আইও সাথে যোগাযোগ করছে কিনা, তদন্তে সহায়তা করেছে কিনা। সে স্ত্রী হত্যার বিচার চাবে, প্রেস কনফারেন্স করবে, পেপারে নিউজ দেবে সবকিছুই তার দায়িত্ব। অথবা আইওকে গাইডলাইন দেবে তার যতটুকু বিদ্যা বুদ্ধি আছে।  কিন্তু সে চুপ থাকার কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে’।

এসব নিয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি বাবুল আক্তার। তবে গত ৩১ জানুয়ারি নিজের ফেসবুকের স্ট্যাটাসে আকরাম হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ঘটনার সময় তিনি জাতিসংঘ মিশনে দেশের বাইরে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে পুলিশ বলছে মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে। সেগুলো যাচাইয়ের কাজ চলছে। এসআই আকরাম হত্যার বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার বিষয়টিও ক্ষতিও দেখবে চট্টগ্রাম পুলিশ।

মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয়ে আমাদের জানার প্রয়োজন ছিল, সে বিষয়গুলো আমরা জানার চেষ্টা করেছি। বাবুল আক্তারের বিষয়ে কে কি বলছে আমরা কাজ করছি।

সূত্র: যমুনা টিভি