বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিকা-ের ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় জেলার এসপিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
আদেশে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইজিপি ও রংপুর পুলিশের ডিআইজিকে বাকি পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা বাস্তবায়ন হল কি না- সে বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে। গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ গত ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার ৬৫ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
সেখানে বলা হয়, “সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ওই ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। এই আগুন লাগানোর ঘটনার সাথে দুইজন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত।”
আরও কিছু পুলিশ সদস্য ওই সময় কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন; তারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ না করলেও তা নেভানোর চেষ্টা করেননি বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।
যারা আগুন দিচ্ছিলেন, তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং অনেক দূর থেকে ঘটনাটি ভিডিও করায় ওই পুলিশ সদস্যদের চেহারা শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তাছাড়া মুখ্য বিচারিক হাকিম সেদিন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের তালিকা চাইলেও পুলিশ
এর আগে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে আদালতে প্রতিবেদন জমা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ডিবির একজন সদস্যসহ তিন পুলিশ সদস্য জড়িত। কিন্তু তারা ওই সময় হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। ওই ঘটনায় দূর থেকে ভিডিও করা হয়েছে বলে ভিডিওতেও তাদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল পুরুষ নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাই কোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করে।
তথ্যসূত্র : বাংলাট্রিবিউন, বিডিনিউজ

