মিয়ানমারের সরকারি তদন্ত কমিশন বাংলাদেশে আসছে: মিউ মিন্ট থান

প্রকাশিত: February 28, 2017 | সময়: 1:15 pm

বালাভূমি ডেস্ক ॥
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে কি অবস্থায় আছে সেই সম্পর্কে জানতে মিয়ানমার সরকার একটি তদন্ত কমিশন বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন বলে জানালেন ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থান। ধারণা করা হচ্ছে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে সমালোচনা পাশ কাটাতে মিয়ানমার এ পদক্ষেপ।

ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থান গতকাল বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া অণু বিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খানের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব তথ্য জানান।

কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, মিয়ানমারের সরকারি কমিশনকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি প্রথমেই দেশটি তার সরকারি গণমাধ্যমে প্রচার করেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছে।

এদিকে বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বর্তমানে মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সিউকে প্রধান করে গত ডিসেম্বরে ‘মংডু অঞ্চলবিষয়ক তদন্ত কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। গত মাসে কমিশনের অন্তর্র্বতী প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনে ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে স্যাফরন রেভল্যুশন (গেরুয়া বিপ্লব) হয়েছিল। ভিক্ষুদের দমনে সামরিক সরকারের রক্তাক্ত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন জেনারেল মিন্ট সিউ।

এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে দেশটির সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ রাপোর্টিয়ের ইয়াংঘি লি। তিনি বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁর মনে হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যে মাত্রায় সহিংসতার শিকার হয়েছে, তা যে কারও কল্পনার অতীত। ইয়াংঘি লি ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফরের পর এই বিবৃতি দিয়েছেন। গতকাল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর তাঁর বিবৃতিটি প্রচার করে।

এছাড়াও ঢাকা ও কক্সবাজার সফরের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে ইয়াংঘি লি বলেন, ‘আমি প্রথমে যা ধারণা করেছিলাম, পরিবারগুলো তার চেয়ে অনেক ব্যাপক মাত্রার সহিংসতার শিকার হয়েছে ও সাক্ষী হয়েছে।’

গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের চৌকিতে হামলার ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা শুরু করলে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশ সফরের সময় ওই সব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেন ইয়াংঘি লি। তিনি তাঁর প্রতিবেদনে নৃশংস হামলার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এসব ঘটনার মধ্যে আছে লোকজনকে গলা কেটে হত্যা করা, নির্বিচারে গুলি করা, লোকজনের হাত বেঁধে তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া, কম বয়সের শিশুদের আগুনে ছুড়ে মারা, গণধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন নিপীড়ন। এ ছাড়া ৯ অক্টোবরের পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর দেশটির সরকার যে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, সেটিও তুলে ধরেছেন ইয়াংঘি লি।

ইয়াংঘি লি বলেন, ‘ওই জনগোষ্ঠী অব্যাহতভাবে যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, অবিলম্বে তা বন্ধে এবং গুরুতর কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিহত করতে মিয়ানমারের সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের যেসব অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত এসব ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুরোধ জানাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের মধ্যে যাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে তাদের এবং তাদের জনগোষ্ঠীর জন্য সাধ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য সবকিছু করা এবং তাদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবারই।