বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পরিপূর্ণ পরিকল্পনা সম্বলিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রোডম্যাপে সীমানা জটিলতা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচন পদ্ধতি সংক্রান্ত সকল বিষয়ের একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ, আইন সংস্কারসহ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিএম শামছুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সর্বপ্রথম রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। যদিও ২০০৮ সালের আগে ও পরে নির্বাচন পরিকল্পনায় চেকলিষ্ট তৈরি করা হলেও কোন কমিশনই পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ দেয়নি।
বর্তমান সংসদের মেয়াদ এরইমধ্যে ৩ বছর অতিক্রম করলো। সেই হিসেবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর কিংবা ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে হতে পারে একাদশ সংসদ নির্বাচন। এমন লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মত একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বর্তমান ইসি।
নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০১৯ সালে জানুয়ারি মাসে হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনা চলছে। নির্বাচন নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে। কমিশনের কাছে সেটি আসলেই নির্বাচন সংক্রান্ত বিবিধ দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদি সেখানে কিছু সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন হয় তাহলে কমিশন সেটাও করবে।’
প্রস্তাবিত এই রোডম্যাপে রাজনৈতিকদলগুলোর সাথে আলোচনা, প্রয়োজনে আইন সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় রাখা হচ্ছে। তবে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও প্রস্তুতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
কবিতা খানম বলেন, ‘আমরা সব দলকে নিয়েই আলোচনার পরিকল্পনা করছি। সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার প্রয়োজনে আইনের কিছু সংস্কার করার প্রয়োজন আছে। প্রয়োজনে আইনও সংস্কার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যাতে সেনাবাহিনীকেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারি সেই প্রস্তুতিও থাকবে। কিন্তু প্রয়োজন না হলে আমরা ব্যবহার করবো না।’
পরিকল্পনায় রাখা সময়ের মধ্যেই পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করার পরামর্শ সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ করতে যাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তার কারণ হলো, জনগণও জেনে যাবে কতদিনের মধ্যে কোন কোন কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। আর নির্বাচন কমিশনও তৎপর থাকবে যে, আমাকে এই কাজটি এই সময়ের মধ্য করে ফেলতে হবে।’ সময় টিভি

